নেনে রয়্যালের আসল নাম রাট্টিকান আমলোয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি পরিবেশন করেন মার্কিন রক ব্যান্ড দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের জনপ্রিয় গান ‘সেভেন নেশন আর্মি’। শক্তিশালী রক ও মেটাল পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার অন্য নয় ফাইনালিস্টকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মুকুট পরেন তিনি। তবে নেনের উত্থান ফাইনালের মঞ্চ থেকে শুরু হয়নি। অডিশনেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন এই কিশোরী। দ্য ক্র্যানবেরিজের বিখ্যাত গান ‘জম্বি’ ভারী রক ধাঁচে পরিবেশন করে বিচারকদের পাশাপাশি দর্শকদেরও চমকে দেন তিনি। সেই পরিবেশনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ইতিমধ্যে দুই কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে।
ফাইনালের আগে নেনের সামনে আসে আরও একটি বড় সুযোগ। জনপ্রিয় মার্কিন ব্যান্ড লিনকিন পার্কের সঙ্গে একই মঞ্চে গান করার সুযোগ পান তিনি। ব্যান্ডটির ২০২৪ সালের গান ‘দ্য এম্পটিনেস মেশিন’ পরিবেশন করে নিজের সংগীত প্রতিভার আরেকটি দিক তুলে ধরেন নেনে।শেষ পর্যন্ত যখন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়, আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। মঞ্চেই হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে দেখা যায় তাঁকে। ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের পাশাপাশি এই জয় এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতিও। বাংলাদেশি মুদ্রায় পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বিজয়ের পর নেনে বলেন, এই মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। একই সঙ্গে তাঁর পাশে থাকা ও সমর্থন করা সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নেনের এই জয় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানেই আলোচনার জন্ম দেয়নি, উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে তাঁর নিজের দেশ থাইল্যান্ডেও। দেশটির অনেক দর্শক সরাসরি অনুষ্ঠান দেখতে না পারায় ইউটিউবের সম্প্রচারের ওপর নির্ভর করেছিলেন। ফল ঘোষণার সময় সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তৈরি হয় উৎকণ্ঠা। পরে নেনের জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় উদ্যাপন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলও নেনে রয়্যালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশটির সরকারি জনসংযোগ বিভাগও তাঁর সাফল্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। বিশ্বের বড় একটি মঞ্চে নিজের থাই পরিচয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরার বিষয়টিও প্রশংসিত হয়েছে। তবে নেনের গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় হয়তো তাঁর শৈশব। থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী ফুকেটে বেড়ে ওঠা এই কিশোরী মাত্র সাত বছর বয়সে গিটার শেখা শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সংগীত নিয়ে বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর।
সেই স্বপ্নের পথে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি ফুকেটের নাকা উইকেন্ড মার্কেটে পথসংগীত পরিবেশন করতেন নেনে। স্থানীয় মানুষের কাছে তাই তিনি আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। ফুকেটের ট্যুর গাইড পিয়ারাত না সংখলা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি নেনেকে গান করতে দেখেছেন। নেনের সাফল্যে এখন গর্বিত তাঁর শহরও। নাকা মার্কেট কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। একইভাবে ফুকেটের কাজনকিয়েট আন্তর্জাতিক স্কুলেও নেনের জয় উদ্যাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একসঙ্গে তাঁর ফাইনাল পারফরম্যান্স দেখেছেন এবং বিজয়ের মুহূর্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
একসময় স্থানীয় মার্কেটে গিটার হাতে গান করা সেই কিশোরীই এখন বিশ্বমঞ্চের বিজয়ী। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নেনের এই সাফল্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল বড় স্বপ্নের শুরুটা কখনো কখনো খুব ছোট একটি মঞ্চ থেকেই হয়।












