দেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ‘ফেইস অব বাংলাদেশ ২০২৬’-এর সেরা হয়েছেন অদিত সারজিল কোরেশি ও আফসানা সুলতানা। এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘ফেইস অব এশিয়া’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তাঁরা।
দেশের ফ্যাশন অঙ্গনে নতুন দুই মুখের অভিষেক হলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। ‘ফেইস অব বাংলাদেশ ২০২৬’-এর নারী বিভাগে আফসানা সুলতানা এবং পুরুষ বিভাগে অদিত সারজিল কোরেশি বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে খুলেছে আন্তর্জাতিক মডেলিংয়ের নতুন সম্ভাবনা।
গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব। জমকালো গালা নাইটে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফেইস অব এশিয়া’ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেবেন তাঁরা।
আগামী ৬ থেকে ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যালের অন্যতম আকর্ষণ ‘ফেইস অব এশিয়া’। সেখানে এশিয়ার প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের এই দুই মডেল।
পাঁচ শতাধিক আবেদন থেকে চূড়ান্ত মঞ্চে ২০ জন
নতুন প্রজন্মের মডেলদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত হয় ‘ফেইস অব বাংলাদেশ’। ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আয়োজনটির নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি)।
এবারের আসরে সারা দেশ থেকে পাঁচ শতাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে নারী ও পুরুষ বিভাগ থেকে ১০ জন করে মোট ২০ জন জায়গা করে নেন চূড়ান্ত পর্বে।
প্রতিযোগীদের শুধু বাহ্যিক উপস্থাপনা নয়, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগের দক্ষতা, মঞ্চে উপস্থিতি এবং বহুমুখী প্রতিভাও যাচাই করা হয়। দীর্ঘ গ্রুমিং পর্বের মধ্য দিয়ে তাঁদের চূড়ান্ত মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
রানার আপ হলেন যাঁরা
পুরুষ বিভাগে অদিত সারজিল কোরেশির পর প্রথম রানার আপ হয়েছেন এসকে আবদুল্লাহ আরউইন এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন রাকিবুল হাফিজ ইখতি।
নারী বিভাগে আফসানা সুলতানার পর প্রথম রানার আপ নির্বাচিত হয়েছেন সাদিয়া হোসেন অর্পিতা। দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন ফেরদৌসী তানভীর ইচ্ছা।
চূড়ান্ত শিরোপার পাশাপাশি কয়েকটি বিশেষ বিভাগেও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ‘বেস্ট হেয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন এসকে আবদুল্লাহ আরউইন। ‘বেস্ট স্কিন’ পুরস্কার পেয়েছেন সাদিয়া হোসেন অর্পিতা এবং ‘বেস্ট স্মাইল’ হয়েছেন আফসানা সুলতানা।
অন্যদিকে, ‘বেস্ট ফিজিক’ পুরস্কার জিতেছেন অদিত সারজিল কোরেশি। নারী বিভাগে ফেরদৌসী তানভীর ইচ্ছা এবং পুরুষ বিভাগে রাকিবুল হাফিজ ইখতি পেয়েছেন ‘বেস্ট পারসোনা’ স্বীকৃতি।
বিচারকের আসনে তারকা ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্বরা
চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন ফ্যাশন, সৌন্দর্য, বিনোদন ও আলোকচিত্র অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরা। বিচারকদের তালিকায় ছিলেন পারসোনার কানিজ আলমাস খান, জুরহেমের সৃজনশীল পরিচালক মেহরুজ মুনির, মডেল ও অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া, ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহিদা রহমান ইরিন, আলোকচিত্রশিল্পী রফিকুল ইসলাম রাফ, ফ্যাশন উপদেষ্টা শেখ সাইফুর রহমান এবং এএমটিসির প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ।
আজরা মাহমুদের মতে, এ আয়োজন শুধু সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও তরুণদের সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি মঞ্চ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ভালো করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এবার চোখ আন্তর্জাতিক মঞ্চে
দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়া অদিত ও আফসানার জন্য এখন নতুন চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের তুলে ধরা। বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে একই মঞ্চে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের মডেলিং ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
‘ফেইস অব বাংলাদেশ’-এর এই আসর তাই শুধু বিজয়ী নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের নতুন প্রজন্মের মডেলদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগও তৈরি করেছে। এখন অপেক্ষা সিউলের মঞ্চে অদিত সারজিল কোরেশি ও আফসানা সুলতানা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে কতটা সাফল্য অর্জন করেন।












