বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাশমিকা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিবার তিন মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে পরিবারগুলোকে। এর মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ কিছুটা কমবে এবং পরিবারগুলো অন্য প্রয়োজন মেটাতে অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে।
সিনেমার চরিত্র থেকেই অনুপ্রেরণা
রাশমিকার এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রানাবালি’র একটি চরিত্র। ছবিটিতে ‘জয়াম্মা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, চরিত্রটির সঙ্গে বাস্তব জীবনের নিজের ব্যক্তিত্বের কিছু মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ও অন্যের জন্য কিছু করার মানসিকতায় রয়েছে মিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবির চরিত্রটি নিয়ে ভাবতে গিয়েই মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে তাঁর। পর্দার চরিত্র থেকে পাওয়া এই অনুপ্রেরণাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দিয়েছেন অভিনেত্রী।
কেন প্রকাশ্যে আনলেন উদ্যোগের কথা?
রাশমিকা জানিয়েছেন, এর আগেও মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তামূলক কাজ করেছেন তিনি। তবে সেসব উদ্যোগ সাধারণত ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখতে পছন্দ করতেন। এবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পেছনে রয়েছে অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ইচ্ছা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে সব সময় কিছু করার চেষ্টা করেন। আগে মনে করতেন, তিনি, তাঁর দল এবং কাছের কয়েকজন মানুষ বিষয়টি জানলেই যথেষ্ট। কিন্তু এবার তাঁর মনে হয়েছে, এই উদ্যোগের কথা জানলে অন্যরাও হয়তো নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।
অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, সহায়তার পরিমাণ বড় হওয়াই তাঁর কাছে একমাত্র বিষয় নয়। বরং অন্যদের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
খাদ্যখরচ কমলে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়
একটি পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের বড় অংশ চলে যায় চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব পণ্যের খরচ বহন করা হলে পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। সেই অর্থ দিয়ে তারা ভবিষ্যতের প্রয়োজন কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার জন্য সঞ্চয় করতে পারবে, এমনটাই আশা রাশমিকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রম দক্ষিণ ভারতের আটটি এলাকায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে সহায়তা করাই এর লক্ষ্য।
‘ছোট একটি ভালো কাজও বদলে দিতে পারে জীবন’
নিজের উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাশমিকা ভক্তদের ছোট ছোট মানবিক কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, সহায়তা পাওয়া মানুষগুলোর মুখে হাসি দেখলে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের কষ্ট, সংগ্রাম, নির্ঘুম রাত ও চোখের পানির কথা সার্থক মনে হয়। তাঁর কাছে এই আনন্দের মূল্য অপরিসীম।
‘রানাবালি’ মুক্তির আগেই আলোচনায় রাশমিকা
মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি রাশমিকা এখন ব্যস্ত তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রানাবালি’ নিয়ে। ছবিটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা। তাঁদের একসঙ্গে এই ছবিতে দেখা যাওয়ার বিষয়টিও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। ছবিটির প্রচারণার সময়েই নিজের মানবিক উদ্যোগের কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে, ৪০০ পরিবারের খাদ্যসহায়তার এই উদ্যোগ রাশমিকার অভিনয়জীবনের বাইরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। নিজের জনপ্রিয়তাকে অন্যদের ভালো কাজে উৎসাহিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চান তিনি। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই উদ্যোগ ভক্ত ও অনুরাগীদের কতটা অনুপ্রাণিত করে।












