অভিনয়, উন্নয়নকাজ ও গবেষণায় নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। পেশাগত পরিচয়ের মতো তাঁর ফ্যাশনেও রয়েছে নিজস্বতা। দেশি শাড়ি, অক্সিডাইজড গয়না আর সাদামাটা সাজে কীভাবে হয়ে ওঠেন আকর্ষণীয়, দেখে নেওয়া যাক তাঁর ১২টি লুক।
একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব তাঁর পোশাক নির্বাচনের মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়। ফ্যাশন মানেই যে জমকালো পোশাক কিংবা ভারী সাজসজ্জা, তা নয়। কখনো সাধারণ একটি তাঁতের শাড়ি, ছোট্ট টিপ আর মানানসই গয়নাতেই ফুটে উঠতে পারে ব্যক্তিত্বের অনন্য প্রকাশ। অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার ফ্যাশন ভাবনায় এই স্বতঃস্ফূর্ততাই চোখে পড়ে।
অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন মিথিলা। এবার তাঁর পেশাগত জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। ব্র্যাকের সঙ্গে প্রায় দুই দশকের কাজের অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
কর্মজীবনের নানা পরিচয়ের পাশাপাশি মিথিলার পোশাক নির্বাচনও তাঁকে আলাদা করে চেনায়। দেশীয় পোশাকের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে শাড়িতে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায়। কখনো সাদা তাঁতের শাড়ি, কখনো সাদাকালো জামদানি, আবার কখনো প্যাস্টেল গোলাপি কিংবা মাস্টার্ড রঙের শাড়িতে ধরা দেন তিনি। পোশাকের সঙ্গে গয়না ও মেকআপের সামঞ্জস্য রাখার প্রবণতাও তাঁর সাজে লক্ষণীয়।

দেশি শাড়িতে সাবলীল সৌন্দর্য
মিথিলার ফ্যাশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেশীয় বুনন ও নকশাকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা। সাদাকালো জামদানির সঙ্গে কালো স্লিভলেস ব্লাউজ এবং অক্সিডাইজড গয়না তাঁর সাজে এনেছে আভিজাত্য। অন্যদিকে, টেম্পল পাড়ের সাদা তাঁতের শাড়ি, সাধারণ ব্লাউজ ও হালকা গয়নায় তাঁর উপস্থিতি ছিল মার্জিত।

খয়েরি রঙের শাড়ির সঙ্গে সাদাকালো ছোট চেকের ব্লাউজ এবং অক্সিডাইজড গয়নার সমন্বয়েও রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। ছোট্ট টিপের ব্যবহার পুরো সাজে যোগ করেছে দেশীয় আবহ। এসব লুকে বোঝা যায়, রঙ ও অনুষঙ্গের সঠিক সমন্বয় পোশাককে কতটা স্বতন্ত্র করে তুলতে পারে।

পর্দার চরিত্রেও পোশাকের নিজস্ব ভাষা
মিথিলার ফ্যাশনের আরেকটি দিক দেখা যায় তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোতে। ‘মাইসেলফ অ্যালেন স্বপন’ সিরিজে শায়লা চরিত্রে তাঁকে দেখা গেছে ইক্কত প্রিন্টের ব্লাউজ ও সাধারণ শাড়িতে। চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাকের নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই পোশাককে সাবলীলভাবে ধারণ করাও অভিনয়ের অংশ।

বাস্তব জীবনের মিথিলা আর পর্দার চরিত্রের সাজে পার্থক্য থাকলেও দুই ক্ষেত্রেই পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। কখনো সাধারণ শাড়িতে স্বাভাবিক উপস্থিতি, আবার কখনো চরিত্রের প্রয়োজনে ভিন্ন সাজে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
রং, গয়না আর ছোট ছোট ফ্যাশন কৌশল
সাদা তাঁতের শাড়ির সঙ্গে অ্যান্টিক ফিনিশের লম্বা দুল ও নেকপিস, মাস্টার্ড রঙের শাড়ির সঙ্গে খোলা চুল কিংবা প্যাস্টেল গোলাপি জামদানির সঙ্গে সাদা বোটনেক ব্লাউজ, প্রতিটি লুকেই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

নীল জামদানি বুননের শাড়ির সঙ্গে সফট কার্লস এবং আধুনিক গয়নার ব্যবহার তাঁর সাজে এনেছে সমসাময়িক মাত্রা। আবার সোনালি পাড়ের পিচরঙা শাড়ির সঙ্গে গোল্ডেন গয়না কিংবা ফুলেল নকশার পিচ শাড়ির সঙ্গে রুপালি জড়োয়া গয়নায় তাঁকে দেখা গেছে কিছুটা উৎসবমুখর সাজে।

মভ রঙের কারুকাজ করা শাড়ির সঙ্গে মেরুন বোটনেক ব্লাউজের সমন্বয়ও নজরকাড়া। অন্যদিকে, মেয়ের সঙ্গে তোলা ছবিতে হলুদ, সাদা ও ম্যাজেন্টা নকশার সিনামন রঙের জামদানি বেছে নিয়েছেন মিথিলা। এই লুকে দেশীয় পোশাকের রঙিন বৈচিত্র্য সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

ফ্যাশনে নিজস্বতাই আসল
মিথিলার বিভিন্ন লুক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, আকর্ষণীয় দেখাতে সব সময় ভারী মেকআপ কিংবা জমকালো পোশাকের প্রয়োজন হয় না। পোশাকের রং, কাপড়ের ধরন, গয়নার নির্বাচন এবং নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখলেই তৈরি হতে পারে পরিপাটি সাজ।

তাঁর ফ্যাশনে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন রয়েছে। কখনো একেবারে সাধারণ, কখনো উৎসবের উপযোগী সাজ, আবার কখনো চরিত্রনির্ভর পোশাক, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে বৈচিত্র্য।

অভিনেত্রী ও গবেষক হিসেবে মিথিলার পেশাগত পরিচয় যেমন বিস্তৃত, তেমনি তাঁর ফ্যাশনও একক কোনো ধারায় আটকে নেই। আর সেই কারণেই শাড়ি ও সাদামাটা সাজে তাঁর উপস্থিতি হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র।












