সোমবার (১৭ আগস্ট) রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাবিলা। এর আগে রংপুর বিভাগের ‘জননী’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে চিকিৎসাকেন্দ্র ঘুরে দেখার পাশাপাশি গর্ভকালীন ও প্রসবপরবর্তী সেবা নিতে আসা নারী, তাঁদের স্বজন, কিশোরী, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

নাবিলার মতে, সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেন কোনো নারীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিপাকে পড়তে না হয়, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শুধু চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেই হবে না, জরুরি মুহূর্তে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনার ব্যবস্থাও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নাবিলা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী পদায়ন এবং নিরাপদ ও ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি।

নাবিলার এই বক্তব্যের পেছনে রংপুর অঞ্চলের বাস্তব স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০২২-এর তথ্য উদ্ধৃত করে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি হাজার জীবিত জন্মে গড়ে ২০ নবজাতকের মৃত্যু হলেও রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ৩০। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় এ অঞ্চলে নবজাতক মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের হারও এ অঞ্চলে উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন নাবিলা। তাঁর বক্তব্য, বাড়তি মনোযোগ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা গেলে রংপুরের মা ও নবজাতকদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে ও কিশোরী গর্ভধারণের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নাবিলার এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ‘জননী’ প্রকল্পটি রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলে সরকারি মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম ২০২৩ সাল থেকে এ অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপদ প্রসব, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা তৈরিকে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে উদ্যোগটি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে কোরীয় সংস্থা কোইকার অর্থায়ন এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরি সহায়তায় ‘জননী’ প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। রংপুর ও লালমনিরহাটের নির্বাচিত এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মাতৃ ও নবজাতকের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে প্রকল্পটি।
মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে নাবিলার এই অবস্থান তাই শুধু একজন তারকার সামাজিক বার্তা হিসেবে নয়, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো সামনে আনার একটি উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে নবজাতক মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, সেখানে পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল, জরুরি রোগী স্থানান্তর ব্যবস্থা ও স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই হতে পারে পরিস্থিতি উন্নতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।












