দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তাঁর ওজন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯২ কেজি। এরপর সাত মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ৩৭ কেজি ওজন কমিয়ে ৫৫ কেজিতে ফিরেছেন তিনি। শুধু ওজন কমানো নয়, গত ২২ আগস্ট ফ্যাশন শোর মাধ্যমে আবারও র্যাম্পে দেখা গেছে তাঁকে।
কীভাবে কমালেন এত ওজন?
মাশিয়াতের ওজন কমানোর গল্পে কোনো কঠোর না খেয়ে থাকার ডায়েট নেই। তাঁর মূল কৌশল ছিল পরিকল্পিত খাবার, নিয়ম মেনে জীবনযাপন এবং ধৈর্য ধরে সেই রুটিন চালিয়ে যাওয়া।
দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর প্রথম দিকে তাঁর ১১ কেজি ওজন স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এরপর আরও ২৬ কেজি কমাতে খাবারের প্রতি বিশেষ নজর দেন তিনি। সন্তান জন্মের সময় সি-সেকশন হওয়ায় শুরুতে ভারী শরীরচর্চা করেননি। নিয়মিত হাঁটাকেই শারীরিক পরিশ্রমের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

এই পুরো সময়ে তাঁর খাদ্যাভ্যাস ঠিক করতে পরামর্শ দিয়েছেন প্যানকেয়ার হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সাজিয়া মাহমুদ। প্রথম সন্তানের জন্মের পরও তাঁর কাছ থেকেই পরামর্শ নিয়ে ৯৮ কেজি থেকে ৫২ কেজিতে নেমেছিলেন মাশিয়াত।
মাশিয়াতের ভাষায়, ডায়েট মানে না খেয়ে থাকা নয়; বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।
কাজে ফেরার ইচ্ছাই ছিল বড় অনুপ্রেরণা
৩৭ কেজি ওজন কমানোর পেছনে মাশিয়াতের সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিল নিজের পেশায় ফিরে আসা। মডেলিংকে তিনি ভালোবাসেন এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি করা নিজের জায়গাটিতে আবার ফিরতে চেয়েছেন।
নিজের ওপর বিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তিকেই এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন মাশিয়াত। তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু ওজনের সংখ্যা কমানো নয়, বরং আবার র্যাম্পে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচিত জগতে ফিরে যাওয়া।
সেই লক্ষ্য পূরণও হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের মাত্র সাত মাস পরই ফ্যাশন শোতে র্যাম্পে হাঁটেন তিনি।
অন্যের ডায়েট অনুসরণ না করার পরামর্শ
নিজের অভিজ্ঞতা ভালো হলেও মাশিয়াত মনে করেন, তাঁর ডায়েট অন্য সবার জন্য একইভাবে কার্যকর হবে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। কারণ, প্রত্যেক মানুষের শরীর, জীবনযাপন ও প্রয়োজন আলাদা।

তাই ওজন কমাতে চাওয়া নারীদের নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পুষ্টিবিদ সাজিয়া মাহমুদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ধৈর্য। শুরুতে দ্রুত ওজন কমলেও একটা পর্যায়ে কমার গতি ধীর হতে পারে। তখন অনেকেই হতাশ হয়ে রুটিন ছেড়ে দেন। অথচ স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ের সঙ্গে খাবারের তালিকা ও দৈনন্দিন রুটিনেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
সামনে নিয়মিত কাজে ফিরতে চান
মাশিয়াতের কাছে সাত মাসের এই যাত্রার সাফল্য শুধু ৩৭ কেজি ওজন কমানো নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন তিনি আবার নিজের পেশাগত জগতে ফিরতে পেরেছেন।
এখন নিয়মিত মডেলিং ও অভিনয়ের কাজ করতে চান এই মডেল। পাশাপাশি নিজের ফিটনেস ধরে রেখে কাজের পরিধিও আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

মা হওয়ার পর ওজন কমাতে আগ্রহীদের জন্য মাশিয়াতের বার্তা একটাই নিয়মিত থাকা। তাঁর মতে, কয়েক দিন ডায়েট করে আবার ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। বরং ডায়েটকে সাময়িক কোনো কর্মসূচি হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস হিসেবে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই যে বড় পরিবর্তনের চাবিকাঠি, মাশিয়াতের সাত মাসের যাত্রা যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।












