‘সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেল ১২ ক্ষুদে শিল্পী

EventsUPDATE

শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির ভাবনা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় ‘সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার তিনটি বিভাগ থেকে সেরা ১২ জন ক্ষুদে শিল্পী পেয়েছে পুরস্কার। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে সনদপত্র।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। নিজেদের কল্পনা ও ভাবনাকে রঙের মাধ্যমে ক্যানভাসে তুলে ধরে তারা।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ। ক্ষুদে শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে শিল্পচর্চা করার আহ্বান জানান। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানার পাশাপাশি সমাজের সব মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় তিনটি বয়সভিত্তিক বিভাগে। শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বিষয় ছিল ‘আমাদের নদী’। চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকে ‘স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ বিষয়ে। আর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির প্রতিযোগীদের বিষয় ছিল ‘চেতনায় বাংলাদেশ’।

তিন বিভাগে সেরা ১২ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে প্রতিযোগিতার আয়োজনে শুধু বিজয়ীদের নয়, অংশ নেওয়া সব শিশু-কিশোরকেই উৎসাহিত করা হয়েছে সনদ দিয়ে।

আয়োজকদের মতে, শিশুদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আয়োজনটির মূল লক্ষ্য। শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে শিশুদের দেশপ্রেমের পাশাপাশি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যবোধও তৈরি হবে বলে আশা তাদের।

স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদের আহ্বায়ক ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের সদস্য সচিব শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে তোলা এবং মহান স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ।

বর্তমান সমাজে অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, শিশু-কিশোরদের মানবিক ও সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণ সম্ভব।

নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরব সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুরা শুধু শিল্পচর্চায় আগ্রহী হবে না, দেশ ও মানুষের প্রতিও আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

আয়োজন সফল করতে অংশ নেওয়া শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *