ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে অংশ নেয় মোট ৪৫টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ছিল অপেক্ষাকৃত নতুন উদ্যোক্তাদের কাজও। ফলে একই ছাদের নিচে একদিকে যেমন ছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য, অন্যদিকে দেখা গেছে নতুন প্রজন্মের নকশা ও সৃজনশীলতার ছাপ।
আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুন নাসের খান। তিনি দেশীয় পণ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার গুরুত্বের কথা বলেন। তাঁর মতে, দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রচার বাড়াতে সরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদ।
আয়োজনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। কে ক্র্যাফটের অন্যতম উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, নানা ধরনের নকশা ও পণ্যের সমাহারের কারণে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি এই ধরনের আয়োজন নতুন ও অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
এফইএবি সভাপতি আজহারুল হক আজাদও উদ্যোক্তাদের এই মেলবন্ধনকে আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা যুক্ত হলে দেশের ফ্যাশনশিল্প আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
মেলা শুরুর আগেই ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহ। আয়োজকদের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১১টা। তবে প্রথম দিন সকাল ৮টা থেকেই অনেকে মাইডাস সেন্টারে আসতে শুরু করেন। স্টলগুলোতে ছিল শারদীয় উৎসবের উপযোগী নানা নকশার পোশাক, শাড়ি, গয়না, ব্যাগ ও হস্তশিল্প।
দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সমসাময়িক নকশার মেলবন্ধনও চোখে পড়েছে বিভিন্ন স্টলে। ফলে একই জায়গায় একাধিক ব্র্যান্ডের পণ্য ঘুরে দেখা এবং পছন্দের জিনিস কেনার সুযোগ পেয়েছেন ক্রেতারা।
বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছিলেন শ্রেয়সী ও রিয়া। তাঁদের কাছে আয়োজনটির বিশেষত্ব ছিল পরিচিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য দেখার সুযোগ। ছোট ও বড়, পুরোনো ও নতুন উদ্যোক্তাদের একই জায়গায় পাওয়া তাঁদের কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে।
অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগ্রহেও ছিল বৈচিত্র্য। সরলা নিয়ে এসেছিল শাড়ি, ফ্লেক্সি স্টাইলের ব্লাউজ, শার্টের পাশাপাশি নতুন গয়নার সংগ্রহ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মানসুরা স্পৃহা জানান, বন্ধু ঋতিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা এবারের শারদীয় সংগ্রহ সাজিয়েছেন।
অন্যদিকে সীবনী কাজ করেছে প্রাকৃতিক রঙ ও ইকো প্রিন্ট নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আবিদা খাতুন জানান, প্রকৃতি থেকে পাওয়া রঙ ব্যবহার করে তৈরি পোশাকগুলো দেখতে আলাদা হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেলায় অংশ নেওয়া ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল শিল্পলোক, পোশাক বাই তাননাস, মিথ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, কইন্যা, কালিন্দী, সিগনেট, সুতলি, আট কুঠুরি নয় দরজা, বুনো, দয়ীতা, তেরো পার্বণ, পরিণীতা ফ্যাশন, তানিস বাংলাদেশ, ঋতি, মিতার গল্প, নকশা মিস্ত্রি, গুটিপা, বক্স অব অর্নামেন্টস, মুনমুন’স, সরলা, অয়ন ক্রাফটস, পৌরাণিক, বেনে বৌ, নিপুণ ক্রাফটস, ট্রেন্ডজ, ট্যান, ক্রাফট পান্ডা, দীঘল, শিশু পরিবহন, খুঁত, যথাশিল্প, আজুরা বাই শান্তা কবির, রিংকি’স অ্যাটায়ার, আর্টজেনিক্স বাই আনিকা, সীবনী, কল্পতরু, ফারহানা ফ্যাশন, কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেস, দেশাল, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, কে ক্রাফট, সাদাকালো, কাপড়-ই-বাংলা ও অন্যরকম।
আয়োজনটির মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসবকে ঘিরে দেশীয় ফ্যাশন ও সৃষ্টিশীল পণ্যের বৈচিত্র্য যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি অভিজ্ঞ ও নতুন উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্মও তৈরি হয়েছে। সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলোর লাইফস্টাইল ক্রোড়পত্র ‘নকশা’ ও এসএমই ফাউন্ডেশন।












