ইউনেসকো স্বীকৃতির পর টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে মেলা

Events

‘ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, তাঁত: টাঙ্গাইলের তাঁতের ঐতিহ্য উদ্যাপন’ শীর্ষক এই আয়োজনে ছিল টাঙ্গাইল শাড়ির প্রদর্শনী ও মেলা। বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে আয়োজনটি চলে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল টাঙ্গাইল শাড়ির দীর্ঘ ইতিহাস ও বয়নশিল্পের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি তাঁতিদের দক্ষতা, ঐতিহ্যবাহী বুননপদ্ধতি এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জীবন ও জীবিকার বিষয়গুলোও সামনে আনা হয়।

টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পরই আয়োজনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর অধিবেশনে টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’তে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই স্বীকৃতির পর টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজন করা হয় প্রদর্শনী ও মেলা। এতে দর্শনার্থীরা টাঙ্গাইল শাড়ির নকশা, বুননশিল্প ও এর ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

১৯ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজনটির উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। তিনি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও পরিচিত করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান সুজান ভাইস, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি।

সুজান ভাইস টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্পকে ‘জীবন্ত ঐতিহ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কেবল কোনো বস্তু বা নিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দক্ষতা, সৃষ্টির প্রক্রিয়া, জীবনযাপন ও জীবিকার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প সেই ধারারই একটি উদাহরণ।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তরুণ ডিজাইনার, গবেষক এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

চার দিনের আয়োজন শেষ হলেও টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই বয়নশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তাঁতিদের দক্ষতা, গবেষণা, নকশার বিকাশ এবং বাজার সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলোই এখন সামনে আসছে।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *