ঘুমের এই সমস্যার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ সবসময় কাজ করে না। মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, রাতে অতিরিক্ত পর্দা দেখা থেকে শুরু করে কিছু শারীরিক সমস্যাও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
দুশ্চিন্তায় ব্যস্ত থাকে মন
কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, অর্থনৈতিক উদ্বেগ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা—এসব বিষয় ঘুমের সময়ও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে পারে। শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হলেও নানা চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
তাই বিছানায় যাওয়ার পরও যদি দিনের নানা ঘটনা বা আগামী দিনের চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে, সেটি ঘুমের ব্যাঘাতের একটি কারণ হতে পারে।
ঘুমের সময়ের কোনো নিয়ম নেই
প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো ও জাগা, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে নেওয়া কিংবা নিয়মিত রাত জাগার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দকে বিঘ্নিত করতে পারে।

নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখার চেষ্টা তাই ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিছানায় যাওয়ার আগেও মোবাইল হাতে
ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় দীর্ঘ সময় কাটানোর অভ্যাসও ঘুমের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট দেখার অভ্যাস মনকে আরও সক্রিয় করে রাখতে পারে।
ঘুমের আগে কিছুটা সময় পর্দামুক্ত থাকা অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।
বিকেলের পর চা-কফি কতটা?
চা, কফি বা অন্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় অনেকের ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অবশ্য ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা সবার এক রকম নয়। তাই নিয়মিত ঘুমের সমস্যা থাকলে দিনের কোন সময়ে এবং কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও খেয়াল করা দরকার।
শরীরের সমস্যাও হতে পারে কারণ
শুধু জীবনযাপন নয়, কিছু শারীরিক সমস্যার কারণেও রাতে ঘুম ব্যাহত হতে পারে। শরীরের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অ্যাসিডিটি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন ঘুমের স্বাভাবিক ধারায় বাধা দিতে পারে।
এ ছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টির ঘাটতি কি দায়ী?
ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ বা ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলেই যে অনিদ্রা হবে, এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।
তাই শুধু ঘুমের সমস্যা হচ্ছে বলে নিজের মতো করে ভিটামিন বা মিনারেলের সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।
দীর্ঘদিন সমস্যা হলে কী করবেন?
মাঝেমধ্যে ঘুমের সমস্যা হওয়া আর দীর্ঘদিন অনিদ্রায় ভোগা এক বিষয় নয়। নিয়মিতভাবে ঘুমাতে সমস্যা হলে বা ঘুমের কারণে দিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ কিংবা কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। কারণ ঘুমের সমস্যার পেছনে থাকা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার ধরনও ভিন্ন হতে পারে।












