বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লোকগান নিয়ে সূচনা শেলী

EventsInternationalMusic WorldUPDATE

কিরগিজস্তানে ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এবারের ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, লোকজ জীবন ও প্রথাগত খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের আসরে শতাধিক দেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা।

ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের মূল আয়োজন হবে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক এবং ইস্যিক-কুল অঞ্চলে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এবারের আয়োজনের বড় একটি অংশজুড়ে থাকছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক জাতিগত সংস্কৃতি উৎসব, লোকসংগীত ও বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এই সাংস্কৃতিক পর্বেই বাংলাদেশের লোকসংগীতের প্রতিনিধিত্ব করবেন সূচনা শেলী। তাঁর পরিবেশনায় উঠে আসবে বাংলার লোকজ সুর, মরমি সংগীতের ঐতিহ্য এবং লালন ও হাসন রাজার দর্শনের নানা দিক।

সূচনা শেলীর জন্য কিরগিজস্তানের মঞ্চ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত ‘রুখ সানাত ওয়ার্ল্ড ট্র্যাডিশনাল কালচার অ্যান্ড মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’-এ বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতিযোগিতায় ১৪ দেশের ৮২ জন শিল্পী ও ব্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এই শিল্পী। সেখানে তাঁর পরিবেশনায় ছিল লালন শাহ ও হাসন রাজার গান।

সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনের মঞ্চে বাংলাদেশের লোকসংগীত তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন সূচনা। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের লোকগান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন, আত্মঅনুসন্ধান, দর্শন ও মানবিকতার দীর্ঘ ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের গান পরিবেশনের সুযোগকে তাই শুধু প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং বিশ্বের দর্শকদের কাছে বাংলার মাটি, মানুষের জীবন, লালনের মানবতাবাদী দর্শন এবং মরমি সংগীতের বৈচিত্র্য তুলে ধরাকেই নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।

সূচনা শেলীর সংগীতজীবনের শুরুটাও পারিবারিক পরিবেশে। তাঁর সংগীতে প্রাথমিক হাতেখড়ি বাবা আবদুল জলিল সরদারের কাছে। পরবর্তী সময়ে লোকসংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, তাঁর ব্যান্ড ‘দিব্যজ্ঞানী’ও দীর্ঘদিন ধরে বাংলার লোক ও মরমি সংগীতকে নিজেদের পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরছে। এবার কিরগিজস্তানের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলটি বাংলাদেশের লোকঐতিহ্যকে নতুন শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপন করবে।

ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমসের এবারের আসরে খেলাধুলার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মিলন ঘটানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে প্রায় ৪০টি দেশের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলে সূচনা শেলীর এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের লোকসংগীতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। ২০২৫ সালে কিরগিজস্তানের মাটিতে পুরস্কার জয়ের পর এবার সেই দেশেই আরও বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলার লোকগানের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে লালন, হাসন ও বাংলার মরমি সুর কতটা নতুন শ্রোতাকে ছুঁতে পারে সেদিকেই এখন নজর সংগীতপ্রেমীদের।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *