১৯৫৪ সালের এই দিনে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন শাইখ সিরাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও সংবাদপত্রে কাজের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার দীর্ঘ গণমাধ্যমযাত্রা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’ উপস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান শাইখ সিরাজ। কৃষকের জীবন ও কৃষির নানা বিষয়কে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরায় অনুষ্ঠানটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে।

পরবর্তী সময়ে চ্যানেল আইয়ে শুরু করেন ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের কথা আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরতে থাকেন তিনি। কৃষি যে শুধু উৎপাদনের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ জীবন ও মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত তার কাজের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
কৃষিকে করে তুলেছেন গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
একসময় কৃষিবিষয়ক খবর গণমাধ্যমে খুব বেশি গুরুত্ব পেত না। শাইখ সিরাজ সেই চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে কৃষকের সাফল্যের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি কৃষির সংকট, আধুনিক প্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ, বহুমুখী চাষাবাদ ও নতুন উদ্যোক্তাদের নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। বিশেষ করে তরুণদের আধুনিক কৃষির সঙ্গে যুক্ত করতে তার বিভিন্ন প্রচার ও উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি কৃষকের সামাজিক মর্যাদা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

দেশে-বিদেশে পেয়েছেন স্বীকৃতি
উন্নয়ন সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য শাইখ সিরাজ পেয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা। ১৯৯৫ সালে তিনি একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।খাদ্যনিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ এইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। এছাড়াও গুসি পিস প্রাইজ, বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ডসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
লেখালেখিতেও কৃষিই প্রধান বিষয়
টেলিভিশনের পাশাপাশি লেখালেখির মাধ্যমেও কৃষি ও উন্নয়নের নানা বিষয় তুলে ধরেছেন শাইখ সিরাজ। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’, ‘ফার্মার্স ফাইল’, ‘মাটির কাছে মানুষের কাছে’, ‘কৃষি ও গণমাধ্যম’, ‘আমার স্বপ্নের কৃষি’ এবং **‘কৃষি ও উন্নয়নচিন্তা’**সহ আরও বেশ কিছু গ্রন্থ।

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে গণমাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের কথা তুলে আনার মধ্য দিয়ে শাইখ সিরাজ তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান। তার কাজের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে কৃষকের জীবন, তাদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প। আর সেই কারণেই বাংলাদেশের কৃষি ও গণমাধ্যমের ইতিহাসে তার নাম আলাদা গুরুত্ব নিয়ে উচ্চারিত হয়।
জন্মদিনে কৃষি ও কৃষকের এই নিরলস কণ্ঠকে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।












