শারদ পোশাকে নেপালি কারুশিল্পের ছোঁয়া

Fashion

এবারের সংগ্রহে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে নেপালের ঐতিহ্যবাহী উড কার্ভিং বা কাঠখোদাই শিল্পের অনুপ্রেরণা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম নেপালের কারুশিল্পীদের হাতে বিকশিত এই শিল্পে মন্দির, প্রাচীন স্থাপত্য ও কাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় দেখা যায় সূক্ষ্ম রেখা, অলংকরণ এবং জটিল নকশার ব্যবহার। সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পভাষাকেই পোশাকের নকশায় নতুনভাবে ব্যবহার করেছে রঙ বাংলাদেশ।

কাঠের গায়ে খোদাই করা নকশার বৈশিষ্ট্যকে সরাসরি অনুকরণ না করে পোশাকের উপযোগী করে এর রেখা, বিন্যাস ও অলংকরণের ধরনকে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে ঐতিহ্যের ছাপ থাকলেও পোশাকগুলোতে রয়েছে সমকালীন রুচির স্বাভাবিক উপস্থিতি। নেপালি কাঠখোদাইয়ের পাশাপাশি দুর্গাপূজার বিভিন্ন প্রতীক ও শারদ উৎসবের পরিচিত অনুষঙ্গও জায়গা পেয়েছে নকশায়। ষষ্ঠীর আগমনী আবহ থেকে শুরু করে দশমীর বিদায়ের অনুভূতি উৎসবের বিভিন্ন মুহূর্ত ও আবেগকে পোশাকের রং ও নকশায় ধারণ করার চেষ্টা রয়েছে পুরো সংগ্রহে।

এই আয়োজনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে সাজানোর পরিকল্পনা। ‘কারু গল্প’, ‘রাঙাবৃত্ত’ ও ‘শরৎরঙ’ এমন কয়েকটি ফ্যামিলি সিরিজে একই নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের পোশাক বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

শুধু পরিবার নয়, দম্পতি কিংবা বন্ধুদের জন্যও রাখা হয়েছে ডুয়েট, কাপল ও ম্যাচিং সিরিজ। পূজামণ্ডপে ঘোরাঘুরি, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা কিংবা উৎসবের ছবি প্রিয় মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে সাজাও হয়ে উঠতে পারে উদ্‌যাপনের একটি অংশ।

নারীদের সংগ্রহে রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও সিঙ্গেল কামিজ। পুরুষদের জন্য রাখা হয়েছে পাঞ্জাবি, যার সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য রয়েছে ধুতি ও পায়জামা। শিশুদের পোশাকেও রাখা হয়েছে শারদ উৎসবের উপযোগী রং ও নকশা। ফলে বয়স কিংবা ব্যক্তিগত পোশাকের পছন্দ আলাদা হলেও পরিবারের সদস্যরা চাইলে নিজেদের মতো করে একই নকশার আবহে সাজতে পারবেন।

পোশাক তৈরিতে কাপড় ও কারুশিল্পের ব্যবহারেও রয়েছে বৈচিত্র্য। স্লাব কটনে ব্যবহার করা হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট। ভিসকস কাপড়ে রয়েছে ডিজিটাল প্রিন্টের পাশাপাশি হ্যান্ডওয়ার্ক। আর জয় সিল্কে দেখা যাবে স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ডওয়ার্ক ও এমব্রয়ডারির সমন্বয়।

একেক ধরনের কাপড় ও কারুশিল্পের আলাদা বৈশিষ্ট্য পোশাকগুলোকে দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আবেদন। কোথাও প্রিন্টের সূক্ষ্ম রেখা নকশাকে স্পষ্ট করেছে, আবার কোথাও হাতের কাজ ও এমব্রয়ডারি যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। উৎসবের দীর্ঘ সময় পরার কথা মাথায় রেখে আরামের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে নকশা ও উপকরণ নির্বাচনে।

শারদীয় কেনাকাটার অভিজ্ঞতায় বাড়তি আনন্দ যোগ করতে থাকছে ‘শারদ ভাগ্যচক্র’। দেশীদশা ছাড়া রঙ বাংলাদেশের আউটলেটগুলোতে ২ হাজার টাকা বা তার বেশি কেনাকাটা করলে নির্ধারিত শর্তে এই আয়োজনের অংশ নেওয়া যাবে। ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে জিতে নেওয়া যাবে বিভিন্ন উপহার।

এ ছাড়া রয়েছে ইএমআই সুবিধাও। রঙ বাংলাদেশের অনলাইন ও অফিশিয়াল আউটলেটে ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি কেনাকাটায় নির্ধারিত শর্তে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

দেশজুড়ে রঙ বাংলাদেশের ২১টি আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে এবারের শারদীয় সংগ্রহ। অনলাইনেও কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রঙ বাংলাদেশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও অর্ডার করা যাবে।

ঐতিহ্যবাহী নেপালি কাঠখোদাইয়ের নকশা, শারদ উৎসবের প্রতীক, দেশীয় পোশাকের পরিচিত ধরন এবং পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে সাজানোর ভাবনা সব মিলিয়ে এবারের আয়োজন শুধু উৎসবের পোশাক নয়, বরং শারদীয় সময়টাকে রঙ ও নকশায় উদ্‌যাপনের একটি প্রয়াস।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *