জাপানি রূপচর্চার সুলভ রহস্য রাইস ওয়াটার

Beauty

ত্বকের যত্নে রাইস ওয়াটার ব্যবহারের পেছনে মূল আকর্ষণ হলো এটি সহজে পাওয়া যায়, তৈরি করাও কঠিন নয় এবং এতে চালের কিছু পানিতে দ্রবণীয় উপাদান থাকতে পারে।

ত্বকের জন্য রাইস ওয়াটার কেন ব্যবহার করা হয়?

চাল ধোয়ার সময় পানিতে চালের কিছু উপাদান মিশে যায়। সেই পানিকেই অনেকে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করেন। কেউ এটিকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করেন, কেউ আবার ক্লিনজিংয়ের পর ত্বকে লাগান। রাইস ওয়াটার ত্বককে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ অনুভূতি দিতে পারে। এর মধ্যে থাকা কিছু যৌগ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের ওপরের স্তরকে আরাম দিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

তবে রাইস ওয়াটারকে কোনো নির্দিষ্ট ত্বকের সমস্যা সারানোর চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা অনুযায়ী এর প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন হতে পারে।

রাইস ওয়াটারে কী থাকে?

চালে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য যৌগ রয়েছে। রাইস ওয়াটার তৈরির পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এসব উপাদানের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।

চাল ও চালজাত উপাদানে ফেরুলিক অ্যাসিড, ফেনোলিক যৌগসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান পাওয়া যায়। এ কারণেই প্রসাধনী শিল্পে চালের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। তবে ঘরে তৈরি চাল ধোয়া পানিতে এসব উপাদানের পরিমাণ কতটা থাকবে, তা নির্দিষ্ট নয়। তাই বাজারের কোনো নির্দিষ্ট স্কিনকেয়ার পণ্যের সঙ্গে ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটারের কার্যকারিতা এক করে দেখা ঠিক হবে না।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

রাইস ওয়াটার ব্যবহারের বেশ কয়েকটি প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। তবে নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

টোনার হিসেবে

চাল ধোয়া পানি পরিষ্কার একটি পাত্রে নিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করা যায়। তুলার প্যাডে নিয়ে হালকা হাতে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।

তবে এতে গোলাপজল, সুগন্ধি বা অন্য কোনো উপাদান মেশানোর আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে একসঙ্গে অনেক উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো।

মুখ পরিষ্কারের পর

মুখ পরিষ্কার করার পর রাইস ওয়াটার ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এটি ত্বকে সতেজ ও নরম অনুভূতি দিতে পারে।

রাইস ওয়াটারকে অবশ্যই মেকআপ বা সানস্ক্রিনের বিকল্প ক্লিনজার হিসেবে ধরা উচিত নয়। এসব পণ্য পরিষ্কারের জন্য উপযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো।

চুলের যত্নেও ব্যবহার হয়

রাইস ওয়াটারের ব্যবহার শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। চুলের যত্নেও চালের পানি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে চুলের বৃদ্ধি বা চুল পড়া বন্ধ করার মতো দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এটিকে চুলের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার না করাই ভালো।

সংবেদনশীল ত্বক হলে সতর্ক থাকুন

প্রাকৃতিক উপাদান মানেই সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ এমন ধারণা ঠিক নয়। ঘরে তৈরি রাইস ওয়াটার দীর্ঘ সময় রেখে দিলে তাতে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই পরিষ্কারভাবে তৈরি করে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহার করা ভালো।

ব্যবহারের পর যদি চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব বা অন্য কোনো অস্বস্তি দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

বিশেষ করে ব্রণ, একজিমা বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপাদান দিয়ে নিজে থেকে চিকিৎসা করার পরিবর্তে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সহজলভ্য বলেই জনপ্রিয়

রাইস ওয়াটারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর সহজলভ্যতা। রান্নাঘরের পরিচিত একটি উপাদান দিয়েই এটি তৈরি করা যায়। জাপানি সৌন্দর্যচর্চার সরলতা ও ত্বকের যত্নে নিয়মিততার ধারণার সঙ্গে এই উপাদানটির ব্যবহারও বেশ মানানসই।

তবে সুন্দর ত্বকের জন্য শুধু একটি ঘরোয়া উপাদানের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত স্কিনকেয়ার রুটিনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে চাইলে সেটিকে ত্বকের যত্নের একটি অতিরিক্ত ধাপ হিসেবে ভাবুন, অলৌকিক কোনো সমাধান হিসেবে নয়।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *