জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে এই ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনন্দিন জীবনে কোন বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া যেতে পারে, দেখে নেওয়া যাক।
১. পরিমিত কফি পান
কফি শুধু ঘুম কাটাতে সাহায্য করে না, এতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদান নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে কফি পানকে ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। অতিরিক্ত কফি এড়িয়ে নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।
২. খাদ্যতালিকায় রাখুন ক্যালসিয়াম
দুধ, দই, ইয়োগার্টসহ ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। ক্যালসিয়াম অন্ত্রে কিছু ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে কোলনের আবরণকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়।
তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালসিয়ামের উৎস রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস কমান
বেকন, সসেজ ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণা সংস্থা প্রক্রিয়াজাত মাংসকে মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
তাই খাদ্যতালিকায় এ ধরনের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে মাছ, ডাল, শিমজাতীয় খাবার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস বাড়ানো যেতে পারে।
৪. বাড়ান ফাইবার
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডাল, রাজমা, ছোলা, পূর্ণ শস্য, ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার থেকে পর্যাপ্ত ফাইবার পাওয়া যায়।
খাদ্যতালিকায় নিয়মিত এসব খাবার রাখলে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গেও বেশি ফাইবার গ্রহণের সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
৫. উপসর্গের অপেক্ষা না করে স্ক্রিনিং
কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সময়মতো স্ক্রিনিং। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের গাইডলাইন অনুযায়ী, গড় ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের স্ক্রিনিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পারিবারিক ইতিহাস, আগে থেকে থাকা কিছু রোগ বা অন্যান্য ঝুঁকি থাকলে ব্যক্তিভেদে আরও আগে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
তাই বয়স ও ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত স্ক্রিনিংয়ের সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও নজর
কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। ধূমপান এড়িয়ে চলা, মদ্যপান সীমিত বা পরিহার করা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মতো অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, কোনো অভ্যাসই কোলন ক্যানসার পুরোপুরি প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে কিংবা পায়খানায় রক্ত, দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া বা মলত্যাগের অভ্যাসে স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।












