গরম না ঠান্ডা, গোসলের জন্য কোন পানি ভালো?

Health

শরীরকে সতেজ রাখতে ঠান্ডা পানি যেমন স্বস্তি দিতে পারে, তেমনি বৃষ্টিতে ভিজে গেলে কুসুম গরম পানি আরামদায়ক মনে হতে পারে। তবে ত্বক ও চুলের কথা বিবেচনা করলে খুব বেশি গরম বা খুব ঠান্ডা পানি দুটিই এড়িয়ে চলা ভালো। দৈনন্দিন গোসলের জন্য আরামদায়ক কুসুম গরম পানি সাধারণত ভালো একটি পছন্দ।

খুব গরম পানিতে গোসলের সমস্যা কী?

বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হলে গরম পানিতে গোসল বেশ আরামদায়ক লাগে। উষ্ণ পানি শরীরের জমে থাকা ঘাম, তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতেও সহায়তা করে। তবে পানি অতিরিক্ত গরম হলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল বা আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এর ফলে ত্বক টানটান, শুষ্ক কিংবা খসখসে লাগতে পারে। যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা একজিমার মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খুব গরম পানি চুলকানি বা অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।

চুলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত গরম পানি ভালো নয়। নিয়মিত খুব গরম পানিতে চুল ভেজালে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে রুক্ষতা বাড়তে পারে।

ঠান্ডা পানি কি বেশি উপকারী?

গরম ও আর্দ্র দিনে ঠান্ডা পানিতে গোসল বেশ সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। শরীরের গরমভাবও কিছুটা কম মনে হয়। তবে ঠান্ডা পানি সবার জন্য একই রকম আরামদায়ক নয়। বিশেষ করে বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীর ঠান্ডা থাকলে একেবারে বরফঠান্ডা পানিতে গোসল অস্বস্তিকর হতে পারে।

এ ছাড়া ঠান্ডা পানি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এমন প্রমাণ নেই। তবে এটি ত্বক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দেয়, এমনটিও বলা যায় না। গোসলের মূল উদ্দেশ্য হলো ঘাম, ময়লা ও শরীরের অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করা।

তাহলে কেমন পানি সবচেয়ে ভালো?

দৈনন্দিন গোসলের জন্য এমন পানি ব্যবহার করা ভালো, যা শরীরের কাছে আরামদায়ক এবং খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা নয়। অর্থাৎ কুসুম গরম পানি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

এ ধরনের পানি শরীর পরিষ্কার করতে যথেষ্ট আরামদায়ক, আবার অতিরিক্ত গরম পানির মতো ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও কম।

তবে ‘কুসুম গরম’ মানেই নির্দিষ্ট একটি তাপমাত্রা সবার জন্য প্রযোজ্য এমন নয়। নিজের আরাম ও ত্বকের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পানির তাপমাত্রা ঠিক করাই ভালো।

গোসলের সময় আরও কিছু বিষয় মনে রাখুন

খুব বেশি সময় ধরে গোসল করবেন না
দীর্ঘ সময় গরম পানিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই অযথা দীর্ঘ সময় গোসল না করাই ভালো।

বৃষ্টিতে ভিজে গেলে শরীর পরিষ্কার করুন
বাইরে থেকে ভিজে ফিরলে গোসল করে শরীর ও ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। তবে প্রতিবার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা অ্যান্টিফাঙ্গাল সাবান ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন।

গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ হলে নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে।

পানি খুব গরম করবেন না
গোসলের সময় শরীর আরাম বোধ করছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পানি এত গরম হওয়া উচিত নয় যে ত্বক লাল হয়ে যায় বা জ্বালা করতে শুরু করে।

ত্বকের ধরন বুঝে সিদ্ধান্ত নিন
শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে খুব গরম পানি এড়িয়ে চলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আর গরমের দিনে সতেজ লাগার জন্য ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষ কথা

গোসলের ক্ষেত্রে ‘গরম না ঠান্ডা’ এমন একক কোনো নিয়ম নেই। আবহাওয়া, শরীরের আরাম এবং ত্বকের ধরন সবকিছু মিলিয়েই পানির তাপমাত্রা বেছে নেওয়া ভালো।

তবে দৈনন্দিন গোসলের জন্য অতিরিক্ত গরম বা বরফঠান্ডা পানির বদলে আরামদায়ক কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বেছে নেওয়াই সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। আর গোসলের পর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও ভুলবেন না।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *