মার্টিন ক্যাম্পবেল পরিচালিত সিনেমাটিতে স্যামুয়েল এল জ্যাকসন অভিনয় করেছেন জ্যাক উলফ চরিত্রে। স্প্যানিশভাষী ক্যারিবীয় একটি দ্বীপে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য চালান তিনি। বয়স বাড়লেও অপরাধের জগত থেকে পুরোপুরি সরে যাননি এই গ্যাংস্টার। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁর খুব কাছে চলে এসেছে বুঝতে পেরে নিজের বাঁচার পথ খুঁজতে শুরু করেন।
জ্যাকের স্ত্রী নোরা, চরিত্রে ইভা গ্রিন। স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জ্যাকের অজানা নয়। বরং সেই সম্পর্ককেই নিজের পরিকল্পনার অংশ বানিয়ে ফেলেন তিনি। নোরার প্রেমিক সার্ফার চ্যাডকে নিজের হত্যার ঘটনায় ফাঁসিয়ে দিতে চান জ্যাক। পরিকল্পনা সফল হলে জীবনবিমার বিপুল অর্থ নোরা ও জ্যাকের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।
তবে জ্যাকও জানেন, নোরা তাঁকে সত্যিই হত্যা করে ফেলতে পারেন। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য স্ত্রীর একটি বক্তব্য রেকর্ড করে রাখেন, যেখানে নোরা তাঁর হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।
এরপর গল্প আরও জটিল হয়ে ওঠে। নোরা চ্যাডকেও নিজের ষড়যন্ত্রে টেনে নেয়। উদ্দেশ্য, প্রয়োজনে এই প্রেমিককেই পুরো ঘটনার দায় নিতে হবে। এর মধ্যে তদন্তে যুক্ত হয় ড্যানি নামের এক গোয়েন্দাও। ফলে কে কাকে ব্যবহার করছে, কে কাকে ফাঁসাতে চাইছে আর শেষ পর্যন্ত কার পরিকল্পনা সফল হবে, সেটাই হয়ে ওঠে গল্পের মূল প্রশ্ন।
সমস্যা হলো, গল্পের এই জটিলতাই একসময় দর্শকের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। জ্যাক যখন নোরার পরিকল্পনার পাল্টা চাল হিসেবে চ্যাডের সঙ্গে আলাদা প্রস্তাব নিয়ে যোগাযোগ করেন, তখন পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।
তবে সিনেমাটির মূল আকর্ষণ শুধু খুনের রহস্য নয়। জ্যাক ও নোরার দাম্পত্য টানাপোড়েন, একে অপরকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা এবং চ্যাডকে নিজেদের খেলায় ব্যবহার করার মধ্যেই ছবির বড় অংশের নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে।
স্যামুয়েল এল জ্যাকসন ও ইভা গ্রিনের অভিনয়ই সিনেমাটিকে বেশ কিছুটা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে চ্যাডের মতো অনভিজ্ঞ ও বিপাকে পড়া চরিত্রকে নিয়ে দুজনের আলাদা আলাদা কৌশল ছবিতে কিছু উপভোগ্য মুহূর্ত তৈরি করেছে।
ইভা গ্রিনের নোরা চরিত্রটি নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ দৃঢ়। অন্যদিকে জ্যাকসনের জ্যাক চরিত্রে রয়েছে অপরাধী জগতের অভিজ্ঞতার ছাপ। চ্যাডকে কখনো নোরার পরিকল্পনায়, কখনো নিজের পরিকল্পনায় টেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে জ্যাকের চরিত্রটি এগিয়ে যায়।
তবে সংলাপ সবসময় সেই ধার ধরে রাখতে পারেনি। পুরোনো ধাঁচের গ্যাংস্টার, অর্থলোভী নারী এবং বোকাসোকা সার্ফারের মতো পরিচিত চরিত্রের কাঠামোও গল্পকে খুব বেশি নতুনত্ব দিতে পারেনি।
পরিচালক মার্টিন ক্যাম্পবেল গল্প বলায় বেশ কিছু পরীক্ষাও করেছেন। শুরুতেই সরলভাবে ঘটনাপ্রবাহ না দেখিয়ে খানিকটা অরৈখিক কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি শেষদিকে কয়েকটি সম্ভাব্য হত্যার দৃশ্য কল্পনার মাধ্যমে দেখানো হয়। কিন্তু এসব কৌশল শেষ পর্যন্ত গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করার বদলে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত জটিল করে তুলেছে।
ফলে ‘জাস্ট প্লে ডেড’ পুরোপুরি ব্যর্থ না হলেও এর সম্ভাবনার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত তাল মেলাতে পারেনি। স্যামুয়েল এল জ্যাকসন ও ইভা গ্রিনের উপস্থিতি এবং কয়েকটি মজার মুহূর্ত সিনেমাটিকে ধরে রাখে। কিন্তু জটিল প্লট, পরিচিত চরিত্রের ছাঁচ এবং অতিরিক্ত গল্প বলার কৌশল ছবিটির ধার কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
‘জাস্ট প্লে ডেড’ ৫ অক্টোবর থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।












