সম্প্রতি ‘স্ট্রেট আপ উইথ শ্রী’ পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শ্রাবন্তী। সেখানে তিনি জানান, ভালোবাসার সম্পর্কে বারবার আঘাত পেয়ে একসময় মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথাও তাঁর মাথায় এসেছিল। শ্রাবন্তীর ভাষায়, ‘অনেক সময় মনে হয়েছে, নিজেকে শেষ করে দেই। তারপর ভেবেছি, কেন শেষ করব? শুধুমাত্র একটা ভুল পছন্দের কারণে?’ অর্থাৎ সম্পর্কের ব্যর্থতা বা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য নিজের জীবনকে শেষ করে দিতে চাননি তিনি। বরং কঠিন সময়েও নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তি সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে।

২০০৩ সালে অল্প বয়সে পরিচালক রাজীব বিশ্বাসকে বিয়ে করেন শ্রাবন্তী। দীর্ঘ দাম্পত্যের পর ২০১৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এই সংসারে তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে, অভিমন্যু। আদর করে যাকে ঝিনুক নামে ডাকেন অভিনেত্রী। বিচ্ছেদের পর থেকেই ছেলেকে নিয়ে থাকছেন তিনি। প্রথম বিয়ের বিচ্ছেদের পর একই বছর মডেল কৃষাণ ব্রিজের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শ্রাবন্তী এবং তাঁকে বিয়ে করেন। তবে সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র এক বছরের মধ্যেই তাঁদের দাম্পত্যের ইতি ঘটে।

এরপর ২০১৯ সালে ফিটনেস ট্রেনার রোশন সিংকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। শুরুতে বিষয়টি অনেকটাই ব্যক্তিগত রেখেছিলেন দুজন। তবে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং একসময় আলাদা থাকতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে রোশন সিংয়ের সঙ্গে শ্রাবন্তীর আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। একাধিক সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের কারণে শ্রাবন্তীকে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতারই একটি কঠিন দিক সামনে আনলেন তিনি।

অভিনেত্রীর কথায় স্পষ্ট, জীবনের সম্পর্কগুলো তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের জীবনকে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল মানুষের কারণে শেষ করে দিতে চাননি। তাঁর এই উপলব্ধিই এখন আলোচনায় এসেছে ভক্তদের মধ্যে।












