বলিউডের সবচেয়ে বিতর্কিত তারকা কে?

Films

সালমান খান

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কও একসময় ব্যাপক আলোচনায় আসে। ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০০২ সালে সেই সম্পর্কের তিক্ত বিচ্ছেদ ঘটে।

বিচ্ছেদের পর ঐশ্বরিয়া সালমানের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ২০০২ সালে মুম্বাইয়ে সালমানের গাড়ি দুর্ঘটনাকে ঘিরেও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়। দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হন। মামলায় তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাবে তিনি ওই মামলায় খালাস পান।

১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাতেও সালমানের নাম জড়ায়। এ ঘটনায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ঐশ্বরিয়া রাই

ঐশ্বরিয়া রাই নিজেও একাধিকবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ২০১৫ সালে একটি গয়নার বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী।

বিজ্ঞাপনটিতে শিশুশ্রম ও দাসত্বের মতো বিষয়কে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা নিয়ে সমালোচনা হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞাপনে ঐশ্বরিয়ার পাশে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ শিশুটির উপস্থাপনাকে অনেকে বর্ণবাদী ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক কর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ ওঠে। পরে ঐশ্বরিয়া ও বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান দুঃখ প্রকাশ করে এবং বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

বিবেক ওবেরয়

সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সম্পর্কের জটিলতার সঙ্গে জড়িয়ে বিতর্কে আসেন বিবেক ওবেরয়ও।

২০০৩ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিবেক দাবি করেন, সালমান তাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, সালমান একাধিকবার ফোন করে তাকে হেনস্তা ও হুমকি দেন।

তবে পরবর্তীতে এই ঘটনায় বিবেক নিজেই দুঃখ প্রকাশ করেন। এমনকি সালমানের মায়ের কাছেও ক্ষমা চান। পরে ২০১৯ সালে সালমান ও ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মিম শেয়ার করেও সমালোচিত হন তিনি।

এসব ঘটনার কারণে অনেকেই মনে করেন, বিবেকের ক্যারিয়ারে বিতর্কের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

সঞ্জয় দত্ত

সঞ্জয় দত্তের জীবনও বিতর্কে ভরা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মাদকাসক্তির সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসেন।

তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ ও অস্ত্র মামলাকে ঘিরে। অস্ত্র আইনের মামলায় তাকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।

সঞ্জয় দাবি করেছিলেন, দাঙ্গার সময় পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তিনি অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর কারাগারে যেতে হয় তাকে।

পরে নিজের কারাজীবন নিয়ে সঞ্জয় জানান, জেল তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে এবং তার ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন এনেছে। তার জীবন ও বিতর্ক নিয়ে ২০১৮ সালে ‘সঞ্জু’ সিনেমা নির্মিত হয়।

কঙ্গনা রানাউত

স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত কঙ্গনা রানাউত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্যের কারণে নিয়মিত বিতর্কে থাকেন।

২০২১ সালে তার একটি টুইটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ওই পোস্টকে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো মন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে টুইটার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে।

এর আগেও তার বোনের অ্যাকাউন্ট বিতর্কিত পোস্টের কারণে স্থগিত হয়েছিল। কঙ্গনা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সরব হওয়ায় প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়েছেন।

রিহানাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তারকাকে নিয়ে তার মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

অমিতাভ বচ্চন

বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল রেখাকে ঘিরে।

১৯৭৩ সালে জয়াকে বিয়ে করেন অমিতাভ। পরে ‘দো আনজানে’ সিনেমায় রেখার সঙ্গে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ‘গঙ্গা কি সৌগন্ধ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়ও তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়।

অমিতাভ ও রেখা দুজনেই দীর্ঘদিন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে পরিচালক যশ চোপড়া একসময় তাদের সম্পর্কের কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনজনকে ঘিরে তৈরি সেই বহুল আলোচিত প্রেমের ত্রিভুজ পরে আরও আলোচনায় আসে ১৯৮১ সালের ‘সিলসিলা’ সিনেমায়। অমিতাভ, রেখা ও জয়া তিনজনই অভিনয় করেছিলেন ছবিটিতে।

অক্ষয় কুমার

অক্ষয় কুমারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি ছিল তার কানাডিয়ান নাগরিকত্ব।

২০১৯ সালের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অক্ষয় জানান, তিনি কানাডার নাগরিক এবং তার কানাডিয়ান পাসপোর্টের বিষয়টি কখনো গোপন করেননি।

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, তিনি ভারতে কাজ করেন এবং এখানেই কর পরিশোধ করেন। নিজের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন অভিনেতা।

শাইনি আহুজা

২০০৯ সালে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন অভিনেতা শাইনি আহুজা। পরে আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়।

মামলার সময় অভিযোগকারী তার বক্তব্য প্রত্যাহার করলেও আদালতে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে শাইনি দোষী সাব্যস্ত হন।

এই ঘটনার পর তার বলিউড ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ধাক্কা আসে। একসময় আলোচিত এই অভিনেতা ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রি থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে যান।

শাহরুখ খান

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানও বিতর্ক থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন। ২০১২ সালে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচের পর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে।

শাহরুখের দাবি ছিল, তার সন্তানদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেছিলেন। এ কারণেই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ঘটনার পর মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাকে পাঁচ বছরের জন্য ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

পরে শাহরুখ শিশুদের সামনে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন, তার ওইভাবে আচরণ করা উচিত হয়নি।

কারিনা কাপুর

‘রামায়ণ’ অবলম্বনে নির্মিত একটি সিনেমায় সীতার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কারিনা কাপুরের পারিশ্রমিকের দাবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে যে পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার চেয়ে প্রায় ১২ কোটি রুপি বেশি দাবি করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

তবে অভিনেত্রী সরাসরি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে নারী-পুরুষের সমান পারিশ্রমিকের পক্ষে কথা বলেন।

তার বক্তব্য ছিল, একজন পুরুষ বেশি পারিশ্রমিক চাইলে যেভাবে বিষয়টি দেখা হয়, একজন নারী একই দাবি করলে তাকে ‘বেশি চাহিদাসম্পন্ন’ বা ‘কঠিন’ বলা হয় এটি পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

বলিউডের মতো বড় তারকানির্ভর ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কর্মকাণ্ড দুটিই সবসময় জনসাধারণের নজরে থাকে। ফলে তারকাদের ছোট-বড় নানা কর্মকাণ্ডও দ্রুত বিতর্কের জন্ম দেয়। কেউ সেই বিতর্ক সামলে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়েছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে বিতর্কের প্রভাব পড়েছে পেশাগত জীবনে।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *