পর্দায় কিছুদিন দেখা না যাওয়ার কারণ নিয়ে মহিমার অবশ্য ভিন্ন ব্যাখ্যা। তার ভাষ্য, তিনি হারিয়ে যাননি; বরং পছন্দসই চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় ছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, একজন শিল্পী নিজের অভিনয়টুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও কোনো প্রকল্প কখন শুরু হবে বা মুক্তি পাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে নির্মাতা ও প্রযোজকদের ওপর। ‘শোটাইম’, ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ ও ‘তুমসে না হো পায়েগা’-এর পর ভিন্ন ধরনের চরিত্র খুঁজছিলেন মহিমা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে ‘মুসাফির ক্যাফে’। তার কাছে এটি ছিল নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্রে ফেরার সুযোগ। তবে কাজের অপেক্ষার সময়টা যে সহজ ছিল না, সেটিও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার কাছে শুটিংয়ের ব্যস্ততার চেয়ে কঠিন হলো কাজের জন্য অপেক্ষা করা। যদিও এই পেশা নিজের ইচ্ছাতেই বেছে নিয়েছেন বলে হতাশা নিয়ে অভিযোগ করতে চান না তিনি। গত দুই বছর কাজের পাশাপাশি নিজের জন্যও সময় বের করেছেন মহিমা। ঘুরেছেন, নিজের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং জীবনের অন্য দিকগুলো নিয়ে ভেবেছেন। এই সময় তাকে নিজের সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করেছে বলেও জানান অভিনেত্রী।
‘রচনা’ নামেই এখনো চেনেন অনেকে
শিশুশিল্পী হিসেবে নয়, মাত্র ১২ বছর বয়সে টেলিভিশনের ধারাবাহিক দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন মহিমা। ‘সপনে সুহানে লড়কপন কে’-এর রচনা চরিত্র তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে দেয়।

এখন বয়স প্রায় ২৭ হলেও অনেক দর্শক তাকে সেই চরিত্রের নামেই মনে রেখেছেন। মহিমার মতে, তার ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করেছে টেলিভিশন। এত বছর পরও দর্শক যখন তাকে পরিবারের একজনের মতো ভালোবাসেন, তখন এই মাধ্যমের প্রভাব কতটা গভীর তা বোঝা যায়।
বিক্রান্তের সঙ্গে পুরোনো পরিচয়
‘মুসাফির ক্যাফে’তে বিক্রান্ত ম্যাসির সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন মহিমা। তবে এই অভিনেতার সঙ্গে তার পরিচয় নতুন নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে ‘বালিকা বধূ’-এর সেটে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। এত বছর পর আবার একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে বিশেষ মনে হয়েছে মহিমার কাছে। বিক্রান্তের অভিনয় প্রতিভার পাশাপাশি তার সরলতাও মুগ্ধ করেছে অভিনেত্রীকে। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভাবান মানুষের অভাব নেই, তবে সাফল্যের মাঝেও মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ পাওয়া কঠিন।

বেদিকা পিন্টোর সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল বলে জানান মহিমা। তার মতে, দুই নারী অভিনেত্রীর মধ্যে প্রতিযোগিতা বা নিরাপত্তাহীনতা থাকতেই হবে এমন কোনো বিষয় নেই। সম্পর্কটা আসলে নির্ভর করে মানুষ হিসেবে দুজনের বোঝাপড়ার ওপর।
যেভাবে পেলেন ‘প্রীতি’ চরিত্র
‘মুসাফির ক্যাফে’-এর প্রস্তাব পাওয়ার সময় অন্য একটি ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন মহিমা। সেখানেই আসে নতুন সিরিজের খবর। প্রথমে গল্প বা অভিনয়শিল্পীদের বিস্তারিত না জেনেই অডিশন দেন তিনি। অডিশন পছন্দ হওয়ার পর বিক্রান্ত ম্যাসির সঙ্গে কেমিস্ট্রি টেস্ট হয়। এরপর চিত্রনাট্য পড়েই চরিত্রটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। মহিমার মনে হয়েছিল, তিনি যে ধরনের গল্পের অপেক্ষায় ছিলেন, এটি ঠিক তেমনই একটি কাজ।
‘পুরোনো দিনের প্রেমে বিশ্বাস করি’
‘মুসাফির ক্যাফে’র প্রীতির সঙ্গে নিজের জীবনের মিল নিয়েও কথা বলেছেন মহিমা। তার মতে, চরিত্রটির কিছু অনুভূতি নিজের সঙ্গে মিলে যায়। গল্পটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো এখানে কোনো চরিত্রকে পুরোপুরি ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং মানুষের ভুল, শেখা এবং বদলে যাওয়ার জায়গাটিই গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রেম ও বিয়ে নিয়ে নিজের বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। মহিমা বলেন, তিনি পুরোনো দিনের প্রেমে বিশ্বাস করেন। তার কাছে বিয়ে মানে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে থাকা উচিত প্রতিশ্রুতি, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। তার ভাষায়, জীবনের শেষ পর্যন্ত মানুষ এমন একটি সম্পর্কই খোঁজে, যেখানে নিজের জন্য একটি ‘ঘর’ খুঁজে পাওয়া যায়। সেই ঘর কখনো নিজের ভেতরে, আবার কখনো বিশেষ কোনো মানুষের মধ্যে তৈরি হয়।
সিনেমা-ওটিটিতে আরও কাজ করতে চান
মহিমার মতে, ‘মুসাফির ক্যাফে’ সিরিজ হিসেবে তৈরি হওয়ায় গল্প ও চরিত্রগুলোকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ হয়েছে। দর্শক চরিত্রগুলোর কাছাকাছি যেতে পেরেছেন, যা সিনেমার তুলনায় সিরিজে অনেক সময় সহজ হয়। এর আগে সালমান খান ও আয়ুশ শর্মার সঙ্গে ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’-এ কাজ করেছিলেন মহিমা। সেই অভিজ্ঞতাকে নিজের শৈশবের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখেন তিনি। বড় পর্দায় নিজের অভিনয় দেখার স্বপ্ন ছিল তার মায়েরও। ভবিষ্যতে বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও আপাতত নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমে নিজেকে আটকে রাখতে চান না মহিমা। টেলিভিশন তাকে পরিচিতি দিয়েছে, আর সিনেমা ও ওটিটি তাকে নতুন ধরনের চরিত্রে কাজের সুযোগ দিচ্ছে।

তাই এখন তার কাছে মাধ্যমের চেয়ে গল্প ও চরিত্রই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন কাজ করতে চান, যা দর্শকের মনে দাগ কাটবে এবং একই সঙ্গে অভিনেত্রী হিসেবেও তাকে নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগ দেবে।












