৭২ বছর বয়সে ৩৫০ কোটির ব্লকবাস্টার, মিঠুনের ক্যারিয়ারের অবিশ্বাস্য গল্প

Films

মিঠুনের চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের পর প্রথম ছবিতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন তিনি। এরপর আশির দশকের শুরুতে ‘শওকিন’ ও ‘আশান্তি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করলেও তাঁকে প্রকৃত তারকাখ্যাতি এনে দেয় ১৯৮২ সালের ‘ডিসকো ড্যান্সার’। ‘ডিসকো ড্যান্সার’ শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মিঠুনের পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় সিনেমাটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা তাঁকে নিয়ে যায় অন্য উচ্চতায়।

‘ডিসকো ড্যান্সার’ দিয়ে রেকর্ড

১৯৮৫ সালে রাশিয়ায় মুক্তির পর ‘ডিসকো ড্যান্সার’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই সময় এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা ছবির মর্যাদাও পায়। এর আগে এই অবস্থানে ছিল অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘শোলে’। পরে ১৯৯৪ সালে ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সাফল্যের সেই সময়েই মিঠুন নিজের অভিনয়ের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সিনেমায় কাজ করতে শুরু করেন। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে কোনো কোনো বছরে তাঁকে ৮ থেকে ১২টি সিনেমাতেও দেখা গেছে। তবে ছবির সংখ্যা যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে ব্যর্থ সিনেমার সংখ্যাও। নব্বইয়ের দশকে নতুন প্রজন্মের তারকাদের উত্থানের পর মিঠুন কম বাজেটের অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় বেশি অভিনয় করেন। অনেক ছবিই অল্প সময় ও সীমিত বাজেটে নির্মিত হতো।

 

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনের হিসাবে, শুধু নব্বইয়ের দশকেই মিঠুন প্রায় ১০০টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর বড় একটি অংশই বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তিন দশক একক নায়ক হিসেবে বড় হিট নেই

মিঠুনের একক নায়ক হিসেবে সর্বশেষ বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমা ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাবণ রাজ’। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁকে আর একক নায়ক হিসেবে বড় কোনো বক্স অফিস সাফল্য পেতে দেখা যায়নি। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে মিঠুন ২৭০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়। সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও প্রতিবেদনের হিসাবে তাঁর প্রায় ১৮০টি সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি সিনেমাকে ‘ডিজাস্টার’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এত ব্যর্থতার পরও মিঠুনের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে। ২০০০ সালের পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশনের রিয়েলিটি শোতেও নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে।

৭২ বছর বয়সে সবচেয়ে বড় সাফল্য

মিঠুনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চমকপ্রদ অধ্যায় আসে ২০২২ সালে। বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির সময় তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছর। তুলনামূলক কম প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ পরে বক্স অফিসে বড় সাড়া ফেলে। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির আয় প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিই মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা।

একদিকে প্রায় ১৮০টি ফ্লপ সিনেমার দীর্ঘ তালিকা, অন্যদিকে ‘ডিসকো ড্যান্সার’-এর মতো ঐতিহাসিক সাফল্য এবং ৭২ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অর্জন মিঠুন চক্রবর্তীর ক্যারিয়ার তাই বলিউডের প্রচলিত সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবকে অনেকটাই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। সংখ্যার বিচারে ব্যর্থতা যতই থাকুক, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের কাছে নিজের জায়গা ধরে রাখা এবং ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে নতুন করে বড় সাফল্য পাওয়া এটাই মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *