মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মেঘনা আলম দাবি করেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি মাথায় কাপড় দিয়ে চলাফেরা করছেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এখনো তার আগের সময়ের তুলনামূলক খোলামেলা পোশাকের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিজের পোস্টে মেঘনা লেখেন, ‘আমি মাথায় কাপড় দিয়ে থাকি প্রায় ২ বছর। এদিকে মিডিয়া সব নিউজ করে আমার আগের ক্লিভেজ শো করা। একজন নারীর চয়েস, কমফোর্ট, মডেস্টি সব কিছুর চেয়ে ভিউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা থাকলেও পর্দা করা সম্ভব না। ’তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল একজন নারীর বর্তমান পছন্দ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া। মেঘনার অভিযোগ, একজন নারীর বর্তমান পোশাক বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বেশি ভিউ পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একটি পোস্ট করেছিলেন মেঘনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি। তার অভিযোগ, ধর্মীয় পোশাক বা নির্দিষ্ট ধরনের লেবাসে না থাকার কারণে তাকে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ শুনতে হয়েছে। মেঘনা লেখেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি। তবুও আমাকে কত অপবাদ দেওয়া হয়, শুধু ধর্মীয় লেবাসে না থাকার কারণে।’
একই পোস্টে পোশাক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একজন নারীকে বিচার করার মানসিকতার সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, একজন মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ, পোশাক কিংবা জীবনযাপনের ধরন দিয়ে তার চরিত্র নির্ধারণ করা উচিত নয়। সমাজের দ্বিমুখী আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মেঘনা। তার অভিযোগ, ধর্ম ও নৈতিকতার কথা বলা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ কিংবা বিতর্কিত অডিও প্রকাশ্যে এলেও অনেক সময় তাদের নির্দোষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, ‘এ কেমন দুনিয়া?’ মেঘনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ তার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তবে নিজের পোশাক, ব্যক্তিগত পছন্দ ও বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মেঘনা আলম। তার বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন একজন মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলে সেই পরিবর্তনকে কতটা সম্মান করা হচ্ছে? বিশেষ করে কোনো নারীর বর্তমান পছন্দের পরিবর্তে পুরোনো ছবি ও পরিচয়কে সামনে এনে তাকে বিচার করার প্রবণতা নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।












