নব্বইয়ের দশকের যে গানগুলো এখনো মনে বাজে!

DhallywoodMusic WorldUncategorized

সেই সময় ঢাকাই চলচ্চিত্রে সালমান শাহ, শাবনূর, মৌসুমী, মান্না, রিয়াজসহ একঝাঁক তারকার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি গানও পেয়েছিল নতুন মাত্রা। এন্ড্রু কিশোর, কনকচাঁপা, সাবিনা ইয়াসমিন, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, রুনা লায়লা, আইয়ুব বাচ্চু, সুবীর নন্দীসহ শিল্পীদের কণ্ঠে অসংখ্য গান ছড়িয়ে পড়েছিল মানুষের মুখে মুখে।

নব্বইয়ের দশকের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে আলোচিত কয়েকটি হলো—

‘ভালো আছি ভালো থেকো’

সালমান শাহ ও শাবনূর অভিনীত ১৯৯৬ সালের ‘তোমাকে চাই’ সিনেমার এই গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে বিশেষ আবেগের। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা গানটিতে কণ্ঠ দেন এন্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপা।

‘এখন তো সময় ভালোবাসার’

১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার গানটি সালমান শাহ-মৌসুমীর অভিষেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। রুনা লায়লা ও আগুনের কণ্ঠে গানটি সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

‘এখানে দুজনে নিরজনে’

‘অন্তরে অন্তরে’ সিনেমার এই গানটি নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক গানের তালিকায় আলাদা জায়গা করে নেয়। রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গানটির সংগীত পরিচালনা করেছিলেন আলম খান।

‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’

১৯৯৭ সালের ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমার এই গানটি ছিল রিয়াজ ও রবীনা ট্যান্ডনের পর্দার রসায়নের অন্যতম আকর্ষণ। খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপার কণ্ঠে গানটি তখন মানুষের মুখে মুখে ফিরত।

‘পড়ে না চোখের পলক’

একই সিনেমার আরেক জনপ্রিয় গান ‘পড়ে না চোখের পলক’। এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠের এই গানটিও নব্বইয়ের দশকের প্রেমের গানের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল।

‘শুধু একবার’

সালমান শাহ ও মৌসুমী অভিনীত ‘দেনমোহর’ সিনেমার এই গানটি ১৯৯৫ সালে শ্রোতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল। খালিদ হাসান মিলু ও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে গানটি পেয়েছিল আলাদা জনপ্রিয়তা।

‘এই দিন সেই দিন’

১৯৯৫ সালের ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ সিনেমার গানটি সালমান শাহ ও শাবনূরের জনপ্রিয় জুটির সঙ্গে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। সাবিনা ইয়াসমিন ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গানটি তখন রেডিও ও ক্যাসেটে নিয়মিত শোনা যেত।

‘সাথী তুমি আমার জীবনে’

‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ সিনেমার এই গানটিও সালমান শাহ-শাবনূর জুটির জনপ্রিয়তার সময়ের অন্যতম পরিচিত গান। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির সঙ্গে গানটি আজও নস্টালজিয়ার অংশ।

‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’


১৯৯৭ সালের ‘লুটতরাজ’ সিনেমার এই গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন আইয়ুব বাচ্চু। কনকচাঁপার সঙ্গে তার কণ্ঠের এই গান সে সময় শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

‘আম্মাজান’

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমার টাইটেল গানটি নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগের অন্যতম স্মরণীয় গান। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে গানটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গানের তালিকায় জায়গা করে আছে।

‘আমার মতো এত সুখী’

নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ও অভিনীত ‘বাবা কেন চাকর’ সিনেমার এই গানটি গল্পের আবেগকে আরও গভীর করেছিল। খালিদ হাসান মিলুর কণ্ঠে গানটি শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

‘পাগল মন’

দিলরুবা খানের কণ্ঠে জনপ্রিয় এই গান নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই শ্রোতাদের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলে। পরবর্তী সময়ে গানটিকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয় একই নামের সিনেমা।

‘প্রেমের সমাধি ভেঙে’

বাপ্পারাজ ও শাবনাজ অভিনীত ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার এই গানটি নব্বইয়ের দশকের আবেগঘন গানের অন্যতম উদাহরণ। এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে গানটি পেয়েছিল ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা।

‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’

মনি কিশোরের অ্যালবামের এই গানটি পরে ‘কে অপরাধী’ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়। সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর গানটি আরও বড় পরিসরে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। পর্দায় গানটিতে অভিনয় করেন ওমর সানী ও শাবনূর।

‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’

১৯৯৭ সালের ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার এই গানটি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক গান। রেডিওর অনুরোধের আসরেও এর চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা, সুর ও সংগীত পরিচালনায় গানটির একাধিক সংস্করণও তৈরি হয়েছিল।

নব্বইয়ের সেই সময় এখন অনেক দূরের। বদলে গেছে গান শোনার মাধ্যম, বদলেছে সিনেমা দেখার অভ্যাসও। কিন্তু সেই সময়ের গানগুলো আজও মানুষকে ফিরিয়ে নেয় শৈশব, কৈশোর কিংবা প্রথম প্রেমের স্মৃতিতে। তাই নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রের গান শুধু সংগীত নয় অনেকের কাছে তা হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের শব্দময় স্মৃতি।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *