অভিনয়ের ৫০ বছর, অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখছেন আজিজুল হাকিম!

Drama

১৫ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদে আজিজুল হাকিম জানিয়েছেন, একটি প্রকাশনা সংস্থা তাঁর অভিনয়জীবন নিয়ে বই প্রকাশে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বইটি কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে বইয়ের নাম, প্রকাশক ও প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিনয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে নিজের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর কাছে। মঞ্চনাটক থেকে টেলিভিশন, বিজ্ঞাপনচিত্র ও চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা বইটিতে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মামুনুর রশীদের হাত ধরে শুরু

আজিজুল হাকিমের অভিনয়জীবনের শুরু ১৯৭৭ সালে। নাট্যজন মামুনুর রশীদের হাত ধরে তিনি যুক্ত হন আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে। মঞ্চের অভিনয়ই হয়ে ওঠে তাঁর শিল্পীজীবনের প্রথম পাঠশালা। শুরুর দিকে ‘ওরা কদম আলী’সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অন্য নাট্যদলের প্রযোজনাতেও কাজ করেছেন।

মঞ্চের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর অভিনয়ের ভিত গড়ে দেয়। চরিত্রের গভীরতা বোঝা, সংলাপের প্রয়োগ এবং মঞ্চে উপস্থিতির মতো বিষয়গুলোতে নাট্যচর্চার প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও মঞ্চের কাছে তাঁর ঋণের কথা উঠে এসেছে।

১৯৮১ সালে ‘এখানে নোঙর’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন আজিজুল হাকিম। শুরুতে ছোট চরিত্রে কাজ করলেও ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে। ১৯৮৪ সালে ‘তবুও তো সে’ নাটকে নায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়। নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।

 

‘শঙ্খনীল কারাগার’ থেকে ‘জয়যাত্রা’

টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয়দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন আজিজুল হাকিম। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এবং মুস্তাফিজুর রহমান পরিচালিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ। পরে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘জয়যাত্রা’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

তাঁর অভিনয়জীবনের বিশেষত্ব হলো, কেবল একটি মাধ্যমে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মঞ্চের অভিজ্ঞতা, টেলিভিশনের জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্রে ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। টেলিভিশন নাটক পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীজীবনে আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে। ফলে প্রস্তাবিত বইয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনার অভিজ্ঞতাও উঠে এলে পাঠকেরা তাঁর কাজের পরিধি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

নতুন প্রজন্মের জন্য অভিজ্ঞতার দলিল

আজিজুল হাকিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বইটিতে মঞ্চে অভিনয় ও নির্দেশনা, বিজ্ঞাপনচিত্র, টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি ও উপলব্ধি এক জায়গায় সংরক্ষিত হলে তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ হয়ে থাকবে না, বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পের পরিবর্তনের ধারাও বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাঁদের জন্য একজন অভিজ্ঞ শিল্পীর কাজের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও শেখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বইটিতে ঠিক কোন কোন স্মৃতি, ঘটনা কিংবা সহশিল্পীর প্রসঙ্গ থাকবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আজিজুল হাকিম বলেছেন, অভিনয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ তাঁর জন্য বড় পাওয়া। দীর্ঘ এই পথচলায় বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি। সেসব অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অভিনেতা।

তাঁর মতে, বই একবার প্রকাশিত হলে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকে। তাই তাড়াহুড়া না করে কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে চান তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসাকেই নিজের এগিয়ে চলার শক্তি হিসেবে দেখছেন এই অভিনেতা।

প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান। ফলে বইটি কবে প্রকাশিত হবে, এর চূড়ান্ত নাম কী হবে এবং প্রকাশনার পরিসর কতটা বিস্তৃত হবে, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে আজিজুল হাকিমের পাঁচ দশকের অভিনয়যাত্রা নিয়ে পাঠকদের সামনে নতুন একটি দলিল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *