সিনেমাটির গল্প ভাবনা ও পরিচালনায় রয়েছেন টিনা খান। চিত্রনাট্য ও সংলাপের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন সৈয়দ মাসুম। সনি রহমানের বিপরীতে অভিনয় করছেন বৃষ্টি চৌধুরী। প্রথম লটের শুটিংয়ে তাঁদের সঙ্গে আরও ছিলেন জ্যাকি আলমগীর, রেবেকা ও আমিন সরকারসহ কয়েকজন শিল্পী। টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন লোকেশনে ইতোমধ্যে সিনেমাটির প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণ সম্পন্ন হয়েছে।
চরিত্রের জন্য বাস্তবের কাছাকাছি সনি
‘মন পাখি’র গল্পে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতিকে শুধু পটভূমি হিসেবে নয়, বরং গল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ফলে চরিত্রটি নিজের মতো করে ধারণ করা সনির জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অভিনেতার ভাষায়, তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নাটক ও চলচ্চিত্রে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও এ ধরনের গল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। বিশেষ করে বাস্তব একটি জনগোষ্ঠীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলাকে তিনি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন। চরিত্রের প্রস্তুতির একটি অংশ ছিল শূকরের সঙ্গে দৃশ্যে অভিনয়। বিষয়টি কেবল অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি সনি। শূকরের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তারপর ক্যামেরার সামনে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি জানান, অভিনয়ের একপর্যায়ে এমনভাবে চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন যে তাঁর মনে হচ্ছিল, শূকর চড়ানোই যেন তাঁর পেশা।

এই প্রস্তুতিই সিনেমাটির বাস্তবধর্মী আবহ তৈরির ক্ষেত্রে অভিনেতার আন্তরিকতার দিকটি সামনে আনে।
সনি-বৃষ্টির নতুন জুটি
‘মন পাখি’তে প্রথমবারের মতো সনি রহমান ও বৃষ্টি চৌধুরীকে জুটি হিসেবে দেখা যাবে। তাঁদের চরিত্রের মধ্য দিয়ে সাঁওতাল সমাজের পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা, সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং জীবনের নানা সংকট গল্পে উঠে আসবে।

সনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে গল্পনির্ভর সিনেমার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ায় দর্শকদের একটি অংশ প্রেক্ষাগৃহ থেকে দূরে সরে গেছে। তাঁর প্রত্যাশা, ‘মন পাখি’ সেই জায়গায় ভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। অভিনেতার মতে, সিনেমাটির বিশেষত্ব শুধু গল্পে নয়; এখানে প্রতিটি চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে পার্শ্বচরিত্রগুলোও গল্পের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয় লটে আরও শিল্পী
প্রথম লটের শুটিং শেষ হওয়ার পর এবার দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘মন পাখি’ টিম। পরবর্তী লটে অভিনয়শিল্পী মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, ফাইয়াজ আহমেদ ববি ও নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদসহ আরও কয়েকজন শিল্পী যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক আসাদুজ্জামান মজনু। অ্যাকশন দৃশ্য পরিচালনার দায়িত্বে আছেন দেলোয়ার হোসেন চুন্নু। সংগীতায়োজনে রয়েছেন শওকত আলী ইমন। নির্মাতাদের লক্ষ্য প্রচলিত বিনোদনধর্মী গল্পের বাইরে গিয়ে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে একটি মানবিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করা। সেই সঙ্গে বাস্তব জীবনের কাছাকাছি থেকে চরিত্রগুলোকে উপস্থাপন করাই থাকছে সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। এখনও ‘মন পাখি’র মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। দ্বিতীয় লটের শুটিং শেষ হওয়ার পর মুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, সাঁওতাল জীবনের গল্পকে বড় পর্দায় তুলে ধরার এই প্রয়াস এবং চরিত্রের জন্য সনি রহমানের এমন প্রস্তুতি—দুটিই সিনেমাটিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি করছে। শেষ পর্যন্ত পর্দায় সেই বাস্তবতার ছাপ কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।












