আগামী ২২ আগস্ট শুরু হয়ে উৎসব চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের বিস্তারিত সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এতে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। উৎসবের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
যে সিনেমাগুলো দেখা যাবে
২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় ঐতিহাসিক সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা উঠবে। পরদিন ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় দর্শক দেখতে পারবেন ‘১৩ নং ফেকুওস্তাগার লেন’।
২৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় থাকছে জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে ‘নান্টু ঘটক’।
২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় ‘অশিক্ষিত’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘রংবাজ’ দেখানো হবে। ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টায় ‘সবুজ সাথী’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘নাচের পুতুল’ প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের ষষ্ঠ দিন ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় দেখা যাবে ‘দূরদেশ’। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে ‘দহন’।
২৮ আগস্ট সমাপনী দিনে বিকেল ৩টায় ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘বধূ বিদায়’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পর্ব।
সমাপনী দিনে থাকছে সম্মাননা
তবে শুধু সিনেমা প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’। উৎসবের সমাপনী দিনে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ৫৮ জন গুণী ব্যক্তিকে দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।
সম্মাননার তালিকায় রয়েছেন শিল্পী, পরিচালক, লেখক, সংগীতশিল্পী, সংগীত পরিচালক, গীতিকার ও চিত্রগ্রাহকসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উৎসবটি সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলি। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অভিনেত্রী দিলারা জামান, প্রযোজক আবদুল আজিজ, অভিনেতা শিবা সানু ও সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তর।

নতুন সিনেমার অপেক্ষায় যখন ঢাকার প্রেক্ষাগৃহগুলো অনেকটাই নিস্তরঙ্গ, তখন পুরোনো দিনের জনপ্রিয় সিনেমাগুলো নিয়ে এমন আয়োজন দর্শকদের জন্য ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। বড় পর্দায় ফিরে আসবে পরিচিত গল্প, প্রিয় চরিত্র আর সেই সময়ের গান—যার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও বাংলা চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ অতীতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
মধুমিতার পর্দায় সাত দিনের এই আয়োজন তাই শুধু সিনেমা প্রদর্শনী নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন করে দর্শকের সামনে ফিরিয়ে আনার একটি উদ্যোগ।












