চাপানি গলির নেতৃত্বে রয়েছেন জসিম ঢালী, অন্যদিকে তকমা গলির প্রভাবশালী চরিত্র কোহিনুর। পুরোনো প্রতিশোধের সূত্র ধরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব ক্রমেই জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, অনলাইন প্রতারণা ও খুনের মতো নানা অপরাধে। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধ ধীরে ধীরে রূপ নেয় বড় এক অপরাধচক্রের গল্পে।
তবে ‘খুপরি’র রহস্য শুধু দুই গলির দ্বন্দ্বেই সীমাবদ্ধ নয়। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ‘খুপরি’ নামের একটি কফিশপ। স্থানীয়দের আড্ডার এই জায়গাকে ঘিরে ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। তদন্ত এগোতে থাকলে একের পর এক অপরাধের সূত্রও এসে যুক্ত হয় কফিশপটির সঙ্গে।
এলাকার অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামেন প্রশাসনের কর্মকর্তা জাহানারা। তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পিত তদন্তের মধ্য দিয়ে অপরাধচক্রের পর্দা উন্মোচনের চেষ্টা করেন তিনি। তবে এই এলাকার প্রতি জাহানারার বিশেষ আগ্রহের নেপথ্যে কী রয়েছে, সেটিও গল্পে তৈরি করবে নতুন কৌতূহল।
সিরিজটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন কচি খন্দকার। তাঁর ভাষ্য, ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘খুপরি’তে দর্শক তাঁকে প্রথমবারের মতো ভিন্ন ধরনের একটি চরিত্রে দেখতে পাবেন। চরিত্রটির প্রস্তাব পাওয়ার পর কিছুটা সময় নিয়ে ভেবেই এতে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

‘খুপরি’কে তিনটি সিজনে সাজিয়েছেন নির্মাতা সৈয়দ রিশাদ। প্রথম সিজনের নাম ‘ফর্মা-তক্ষক’, দ্বিতীয় ‘তক্ষক-ভিক্ষুক’ এবং তৃতীয় সিজনের নাম ‘ভিক্ষুক-বন্ধুত্ব’। প্রথম সিজনের সাত পর্বের দৃশ্যধারণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি দেশি ও আন্তর্জাতিক একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিরিজটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্রেইনবাস্কেটের সহযোগিতায় সিরিজটির প্রযোজনায় যুক্ত আছেন মোহাম্মাদ রাসেল খান। তাঁর মতে, টানটান উত্তেজনা, থ্রিলিং গল্প ও সাহসী চরিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে দর্শকদের নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ‘খুপরি’তে।
সিরিজটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন কচি খন্দকার, দিলরুবা হোসেন দোয়েল, বাসার বাপ্পি, ইকবাল হোসেন, জান্নাতুল রিতু, আনিসা দিয়া, আলেহা, তাফসীর স্বরন ও মনির হোসাইনসহ অনেকে।
দুই গলির পুরোনো বিরোধ থেকে অপরাধের বিস্তার, তার সঙ্গে প্রতিশোধ ও সম্পর্কের জটিলতা সব মিলিয়ে ‘খুপরি’তে তৈরি হয়েছে একাধিক রহস্যের জাল। সেই জাল ভেদ করতে গিয়ে জাহানারা কতটা সফল হন, আর ‘খুপরি’ কফিশপের আড়ালে আসলে কী লুকিয়ে আছে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।












