শিশুশিল্পী থেকে লাক্স চ্যাম্পিয়ন, এবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে বিদুষী বর্ণিতা

DramaUPDATE

প্রথমবারের মতো ওয়েব ফিল্মে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন বর্ণিতা। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র ‘নিউলি ম্যারেড’ গল্পে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন তৌসিফ মাহবুব। প্রায় দুই মাস রিহার্সেলের পর শুটিংয়ে নামেন বর্ণিতা। এরই মধ্যে ওয়েব ফিল্মটির বড় অংশের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন এই অভিজ্ঞতাকে শুধু অভিনয়ের সুযোগ হিসেবে নয়, নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের যাত্রা হিসেবেই দেখছেন তিনি।

বর্ণিতার অভিনয়জীবনের শুরু অবশ্য আরও অনেক আগে। মা-বাবার হাত ধরে ছোটবেলাতেই শোবিজে প্রবেশ তাঁর। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্র ও টেলিভিশন নাটকেও কাজ করেছেন। বাবার রেডিও অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে তাঁর কণ্ঠও শ্রোতাদের নজর কেড়েছিল।

তবে শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পরও বড় হয়ে নিয়মিত অভিনয়ে আসার পথটা সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে কাজের সুযোগ খুঁজেছেন তিনি। অডিশন দিয়েছেন, অপেক্ষা করেছেন; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সেভাবে আসেনি। প্রায় আট-নয় বছরের এই বিরতিতে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ বরং আরও বেড়েছে। সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই শেষ পর্যন্ত ‘লাক্স সুপারস্টার’-এর মঞ্চে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

এবারের যাত্রাটিও ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের সময় প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলেন বর্ণিতা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই সম্ভব হবে না। কিন্তু সুস্থ হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে নেমে পড়েন লড়াইয়ে। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই পেরিয়ে জায়গা করে নেন সেরা দশে। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়।

লাক্সের সেই যাত্রাই বর্ণিতার ক্যারিয়ারে খুলে দেয় নতুন দরজা। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো শিল্পী ও নির্মাতাদের সান্নিধ্য পান তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শকেও নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে দেখেন বর্ণিতা।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার হিসেবে শুধু ট্রফি বা অন্যান্য স্বীকৃতিই নয়, পেয়েছেন বড় পর্দায় কাজের সুযোগও। নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে শিহাব শাহীনের ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগও পেয়েছেন। অর্থাৎ লাক্সের মঞ্চ থেকে সরাসরি দেশের আলোচিত নির্মাতাদের কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

ওয়েব ফিল্মে কাজ করতে গিয়ে তৌসিফ মাহবুবের কাছ থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছেন বর্ণিতা। সংলাপ বলার ধরন, চরিত্রের অভিব্যক্তি কিংবা দৃশ্যের আবেগ অভিনয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন তৌসিফ। নতুন একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য অভিজ্ঞ সহশিল্পীর এমন সহযোগিতাকে বড় পাওয়া হিসেবেই দেখছেন বর্ণিতা।

অভিনয়ের বাইরে বই পড়া ও সিনেমা দেখা তাঁর পছন্দের কাজ। প্রিয় লেখকদের তালিকায় রয়েছেন ফ্রাঞ্জ কাফকা। অভিনয়ে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী, বিপাশা হায়াত, অপি করিম ও আফসানা মিমির কাজ তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। পুরুষ শিল্পীদের মধ্যে আফরান নিশো ও প্রীতম হাসানের কাজও পছন্দ তাঁর।

শোবিজের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন বর্ণিতা। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি।

তবে তাঁর স্বপ্নের পরিধি শুধু দেশীয় অভিনয়জগতে আটকে নেই। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি। ছোট পর্দা ও ওয়েবের কাজের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করে ভবিষ্যতে বড় পর্দায় আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চান।

শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে দীর্ঘ বিরতি, অডিশনে প্রত্যাখ্যান, এরপর লাক্স সুপারস্টারের মুকুট বিদুষী বর্ণিতার পথচলা তাই নিছক তারকা হয়ে ওঠার গল্প নয়। বরং হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে আবার খুঁজে পাওয়ার গল্প। এবার সেই গল্পের পরের অধ্যায় কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার পালা।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *