আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘মাস্টার’। রটারডাম ও ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের পর এবার সার্বিয়ার বেলগ্রেড আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতেছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত সিনেমাটি। অথচ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়ালেও নিজ দেশে এখনো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ছবিটি।
বেলগ্রেড আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৩তম আসরের ওয়ার্ল্ড কম্পিটিশন বিভাগে সেরা চিত্রনাট্যের স্বীকৃতি পেয়েছে ‘মাস্টার’। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত ও সাব্বির হোসেন শোভন।
সিনেমাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জুরিরা ছবিটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং ক্ষমতার সঙ্গে নৈতিকতার সংঘাতের চিত্রায়ণের প্রশংসা করেছেন। ক্ষমতার মোহে একজন মানুষের আদর্শ কীভাবে বদলে যায়, দুর্নীতি ও বিশ্বাসঘাতকতা কীভাবে তাকে গ্রাস করে, সেই গল্পই উঠে এসেছে ‘মাস্টার’-এ।
আন্তর্জাতিক উৎসবে একের পর এক স্বীকৃতি
সার্বিয়ার আগে ইতালির লুকা চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার জিতেছিল সিনেমাটি। এর আগে রটারডাম চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে ‘মাস্টার’।
বেলগ্রেড উৎসবের ওয়ার্ল্ড কম্পিটিশন বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘দ্য রেড হ্যাঙ্গার’। অন্যদিকে ‘ফিলিপিনিয়ানা’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি পেয়েছেন ফিলিপাইনের নির্মাতা রাফায়েল ম্যানুয়েল।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিনেমাটির অর্জনের তালিকা আরও সমৃদ্ধ হলো।
ক্ষমতার পালাবদলে বদলে যায় মানুষ
‘মাস্টার’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। সিনেমার গল্পে তিনি একজন আদর্শবান শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। কিন্তু রাজনীতির ক্ষমতা, নানা সমঝোতা ও আপসের চাপে একসময় তাঁর আদর্শ এবং ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন আসতে থাকে।
রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, নৈতিকতার সংকট এবং মানুষের চারিত্রিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত ও প্রযোজিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরিফ সিরাজ ও তাসনুভা তামান্নাসহ অনেকে।
বিদেশে প্রশংসা, দেশে মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক উৎসবে সাফল্যের বিপরীতে দেশে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ‘মাস্টার’-এর মুক্তি আটকে আছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নির্মাতারা বিষয়টিকে সিনেমার মূল বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের ভাষ্য, ছবিতে প্রাতিষ্ঠানিক বাধা, প্রশাসনিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের যে চিত্র দেখানো হয়েছে, বাস্তবে একই ধরনের বাধার কারণে ছবিটি দেশের দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরও নিজ দেশে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘মাস্টার’ তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন দেখার বিষয়, বিদেশের সাফল্যের পর কবে বাংলাদেশের দর্শক সিনেমাটি দেখার সুযোগ পান।












