রিফাতের দাবি, জায়েদ তাঁকে সহায়তা করেছেন এমন খবরের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জায়েদকে নিয়ে কঠোর মন্তব্যও করেন তিনি। এর আগে অবশ্য রিফাতের চিকিৎসায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছিলেন জায়েদ খান। তাঁর ভাষ্য ছিল, রিফাত তাঁদের সিনিয়র শিল্পী এবং সংকটের সময়ে একজন সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো দায়িত্বের অংশ। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছিলেন এই চিত্রনায়ক। জায়েদ আরও বলেছিলেন, কোনো শিল্পী বিপদে পড়লে সহকর্মীরা পাশে থাকলে তাঁর মানসিক শক্তি বাড়ে। একই সঙ্গে অন্যদেরও রিফাতের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
দুই পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। জয় তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রথমে ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’ গানের বিভিন্ন চরিত্রের প্রসঙ্গ টানেন। পরে রিফাতের চিকিৎসায় জায়েদের সহায়তা নিয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন ঘটনাটি আসলে কী।
জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ সাহায্য করলে সেটি অবশ্যই ভালো বিষয়, আবার সাহায্য না করলেও সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখার কিছু নেই। কিন্তু সহায়তার বিষয়টি নিয়ে যখন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে আসে, তখন প্রকৃত ঘটনা কী সেটিই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
এদিকে রিফাত চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিট-৩-এ চিকিৎসাধীন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। অসুস্থতার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। রিফাতের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর শোবিজ অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। অভিনয়শিল্পী সংঘের প্রতিনিধিরাও হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও এর আগে রিফাতের চিকিৎসায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রিফাত একা নন এবং তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় তিনি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো পাশে থাকবেন।
তবে জায়েদ খানের সহায়তার দাবি রিফাত চৌধুরী অস্বীকার করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা বক্তব্যে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। ফলে তাঁদের মধ্যে আর কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা আসে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।












