১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান ঢাকাই চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। তার ক্যারিয়ারের স্বল্প সময়ে অভিনীত সিনেমার সংখ্যা ছিল ২৭টি। এর মধ্যে ১৪টি ছবিতে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন তিনি। পর্দায় তাদের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও সে সময় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদন ও স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে, শাবনূরকে ঘিরে ছড়ানো সেই গুঞ্জন সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গে তার সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছিল।

মৃত্যুর আগের দিন এফডিসিতে কী ঘটেছিল
১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিংয়ের জন্য এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে ছিলেন সালমান শাহ। ছবিটির নায়িকা শাবনূরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ডাবিংয়ের ফাঁকে সালমান ও শাবনূরের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা চলছিল বলে বিভিন্ন সময়ের বর্ণনায় উঠে এসেছে। একপর্যায়ে সালমান তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদকে ফোন করে সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর বাবার সঙ্গে এফডিসিতে আসেন সামিরা। এরপর ডাবিং কক্ষে সালমান ও শাবনূরকে একসঙ্গে দেখে তিনি মনঃক্ষুণ্ন হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামিরা পরবর্তী সময়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ওই দিনের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শাবনূর সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছিলেন, যা তার ভালো লাগেনি। এ কারণে রাগ করে তিনি এফডিসি থেকে বেরিয়ে যান।
গাড়িতে ছিলেন সালমান ও পরিচালক
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিরা এফডিসি থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন সালমান শাহ ও পরিচালক বাদল খন্দকার। গাড়িতে সামিরা ও সালমানের মধ্যে তেমন কথা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন বাদল খন্দকার। এফডিসির প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছানোর পর সালমান ও বাদল খন্দকার গাড়ি থেকে নেমে যান। পরে সালমান আবার ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও সেদিন আর ডাবিংয়ের কাজ হয়নি।

রাতে পরিচালক বাদল খন্দকার সালমানকে নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় পৌঁছে দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিনই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা
বাদল খন্দকারের পরবর্তী এক বক্তব্য অনুযায়ী, পরদিন সকালে ছবির শিডিউল নিয়ে কথা বলতে তিনি সালমানের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে বাসার নিচে দারোয়ানদের কাছ থেকে সালমানের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এরপর থেকেই সালমানের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সামিরা হক এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। ফলে মৃত্যুর আগের দিনের এফডিসির সেই ঘটনা আজও সালমান শাহকে ঘিরে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি। তবে সেদিনের ঘটনাগুলো নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই এগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও বিভিন্ন সময় প্রকাশিত বর্ণনা হিসেবে দেখা উচিত।

সালমান শাহ চলে গেছেন তিন দশক আগে। কিন্তু তার অভিনয়, জনপ্রিয়তা এবং অকালমৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলো এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।












