তারকাদের প্রচারে কাজ করা অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট বা ওআরএম এজেন্সিগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো তারকার ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি কখনো কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী তারকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতেও ‘ট্রোল ফার্ম’ ব্যবহার করা হয়। এসব ট্রোল ফার্মে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য থাকে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে মনে হয় সাধারণ দর্শকরাই কোনো তারকার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। কার্তিক আরিয়ানের সঙ্গে এক তরুণীর সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো একটি বিতর্ককে এমন প্রচারের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন, কৃতি স্যানন, ক্যাটরিনা কাইফ, রণবীর সিংহ ও বরুণ ধবনের মতো তারকারাও বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পিত ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তবে এসব প্রচারের নেপথ্যে কারা ছিলেন বা সংশ্লিষ্ট তারকারা বিষয়টি জানতেন কি না, তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। এই ধরনের প্রচারে খরচও নাকি নির্দিষ্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো অ্যাকাউন্টে ‘মাস রিপোর্টিং’ করাতে কয়েক হাজার টাকা থেকে খরচ শুরু হতে পারে। প্রায় এক হাজার পোস্টের জন্য ব্যয় হতে পারে এক লাখ টাকা, আর বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অপপ্রচারে খরচ ৫০ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার এই কাজকে তুলনামূলক সস্তাও করেছে। ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে জনমত প্রভাবিত করার এই কৌশলকে ‘সকপাপেট্রি’ বলা হয়। শুধু প্রকাশ্য পোস্ট নয়, তারকাদের ব্যক্তিগত ইনবক্সেও একই ধরনের সংগঠিত বার্তা ও হুমকি পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কখনো একই সংস্থা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই তারকার হয়েও কাজ করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট তারকারা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চলছে বুঝতে না পারলেও সংস্থাটি দুই পক্ষ থেকেই অর্থ পেয়েছে বলে অভিযোগ।
বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রবণতা শুধু তারকাদের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের ব্যবসা ও শিল্পীদের সৃজনশীল কাজও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অর্থের বিনিময়ে পরিকল্পিত ট্রোলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।












