সম্প্রতি ইতালির মেস্ত্রে শহরের বিখ্যাত থিয়েট্রো করসোতে পারফর্ম করেন নগরবাউল জেমস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই আয়োজন ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কনসার্টের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পূর্ণ হয়ে যায় ভেন্যু।

মঞ্চে জেমস উঠতেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোতে কণ্ঠ মেলানোর পাশাপাশি পুরো সময়জুড়েই ছিল দর্শকদের উন্মাদনা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই উচ্ছ্বাস নজর এড়ায়নি ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেরও।
ইতালির স্থানীয় পত্রিকা ‘গ্যাজেট্টিনো’র প্রতিবেদনে জেমসকে ইন্দো-পাক অঞ্চলের ‘ভাস্কো রসি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতালির সংগীতাঙ্গনে ভাস্কো রসি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী এক রক তারকা। ফলে তাঁর সঙ্গে জেমসের তুলনা বাংলাদেশি শিল্পীর আন্তর্জাতিক পরিচিতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

জেমসের ইতালি সফর অবশ্য শুধু একটি কনসার্টে সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে দীর্ঘ বিরতির পর ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাঁর পারফরম্যান্স ঘিরেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে জেমসের গান এখনো নস্টালজিয়া ও আবেগের বড় একটি অংশ।
ইতালিতে তাঁর কনসার্টের সংবাদ স্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়ায় বাংলাদেশের রক সংগীতের জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন এক পরিচিতির সুযোগ। প্রবাসীদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ দেখাচ্ছে, বাংলা ভাষার সংগীতও দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন্ন সংস্কৃতির শ্রোতাদের কাছে আলোচনার জায়গা তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে জেমসের গড়ে তোলা নিজস্ব স্টাইল, কণ্ঠ ও মঞ্চ পরিবেশনা তাঁকে বাংলাদেশের অন্যতম স্বতন্ত্র রক শিল্পীতে পরিণত করেছে। ইতালির সংবাদমাধ্যমে ভাস্কো রসির সঙ্গে তাঁর তুলনা সেই দীর্ঘ পথচলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরই আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।












