চার দিনেই ৯৪ লাখ দর্শক, শেষ মৌসুমেও ‘আউটার ব্যাঙ্কস’-এর দাপট

FilmsInternationalUPDATE

২০ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় সিরিজটির শেষ মৌসুম। এরপর ১৭ থেকে ২৩ আগস্টের সাপ্তাহিক দর্শক তালিকায় সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের জায়গা দখল করেছে ‘আউটার ব্যাঙ্কস’। এর মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো নেটফ্লিক্সের টিভি কনটেন্ট তালিকার শীর্ষস্থানেও জায়গা করে নিয়েছে সিরিজটি।

২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা ‘আউটার ব্যাঙ্কস’ শুরু থেকেই তরুণ দর্শকদের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি করে। সমুদ্রঘেরা পরিবেশ, গুপ্তধনের রহস্য, রোমাঞ্চকর অভিযান, প্রেম এবং একদল বন্ধুর বন্ধন সব মিলিয়ে সিরিজটির গল্প এগিয়েছে নানা বাঁকে।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলীয় অঞ্চল আউটার ব্যাঙ্কস। সেখানকার সামাজিক বিভাজনের একটি বড় অংশ ফুটে উঠেছে ‘পোগ’ ও ‘কুক’দের মধ্যকার দ্বন্দ্বে। তুলনামূলক কম সুবিধাপ্রাপ্ত তরুণদের দল ‘পোগ’-এর নেতৃত্বে রয়েছে জন বি। অন্যদিকে ধনী পরিবারের সন্তানদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘কুক’দের সঙ্গে তাদের বিরোধ গল্পে তৈরি করেছে নানা সংঘাত।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই জন বি ও সারা ক্যামেরনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে দুই বিপরীত প্রান্তের মানুষ হলেও সময়ের সঙ্গে তাদের প্রেম সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গল্পে পরিণত হয়। সারার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাডেলিন ক্লাইন এবং জন বি চরিত্রে রয়েছেন চেজ স্টোকস।

প্রথম মৌসুমে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের সন্ধান দিয়ে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, পরবর্তী মৌসুমগুলোতে সেটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। নতুন শত্রু, বিপজ্জনক পরিস্থিতি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং নানা রহস্যের সঙ্গে লড়তে হয়েছে চরিত্রগুলোকে।

তবে এত কিছুর মধ্যেও সিরিজটির মূল শক্তি হয়ে থেকেছে বন্ধুত্ব। জন বি, জেজে, পোপ, কিয়ারা ও ক্লিও এই তরুণদের পারস্পরিক সম্পর্ক গল্পকে এগিয়ে নিয়েছে বারবার। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ কিংবা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলেও বিপদের সময় তারা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে।

 

শেষ মৌসুমে সেই পরিচিত দলটিই মুখোমুখি হয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জের। এত বছরের অভিযানের পর তাদের সামনে শুধু নতুন রহস্যের সমাধান নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন এসেছে। একই সঙ্গে জন বি ও সারার সম্পর্কও পৌঁছেছে গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে।

‘আউটার ব্যাঙ্কস’-এর আকর্ষণ শুধু গুপ্তধনের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। শ্রেণিবৈষম্য, পরিবার, ক্ষমতা, অর্থের প্রতি মানুষের লোভ, বন্ধুত্ব এবং তরুণ বয়সের আবেগ বিভিন্ন বিষয়কে অ্যাডভেঞ্চারের গল্পের সঙ্গে মিলিয়েছে সিরিজটি।

আর গল্প বলার দ্রুত গতিও দর্শক ধরে রাখার অন্যতম কারণ। একটি রহস্যের সমাধান হওয়ার আগেই সামনে এসেছে নতুন বিপদ। সমুদ্র, নৌকা, দ্বীপ, ধাওয়া এবং অ্যাকশনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি মৌসুমেই তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষ অধ্যায় তাই দর্শকদের কাছে শুধু আরেকটি মৌসুম নয়, প্রিয় চরিত্রগুলোর বিদায়পর্বও। মুক্তির প্রথম চার দিনের ৯৪ লাখ দর্শকের হিসাব অন্তত সেটিই জানান দিচ্ছে শেষবারের মতো ‘আউটার ব্যাঙ্কস’-এর দুঃসাহসিক অভিযানে সামিল হতে দর্শকদের আগ্রহ এখনো তুঙ্গে।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *