যশের ‘টক্সিক’ কি গল্পেই বিষাক্ত?

FilmsInternationalUPDATE

মুক্তির পর প্রকাশিত একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিভিউয়ে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে গল্প ও চিত্রনাট্য। সমালোচকদের ভাষ্য, বিশাল বাজেট, চোখধাঁধানো দৃশ্য, অ্যাকশন, দুর্দান্ত সেট ও তারকাবহুল অভিনয় সবই আছে ‘টক্সিক’-এ; কিন্তু যে গল্প দর্শককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখবে, সেটিই যেন অনুপস্থিত।

‘বলিউড হাঙ্গামা’ সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ২ রেটিং দিয়েছে। তাদের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ছবিতে স্টাইল থাকলেও গল্প ও গভীরতার ঘাটতি স্পষ্ট। বড় পরিসরের নির্মাণ, অ্যাকশন এবং যশের উপস্থিতি নজর কাড়লেও দুর্বল চিত্রনাট্য, ধীর গতি ও আবেগের অভাব সিনেমাটিকে প্রত্যাশিত উচ্চতায় নিতে পারেনি।

অন্যদিকে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ আরও কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের রেটিং মাত্র ১। রিভিউতে সিনেমাটিকে ‘আত্মাহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের এই সিনেমায় একের পর এক চরিত্রের প্রবেশ ও প্রস্থান ঘটলেও মূল গল্পের সঙ্গে দর্শকের শক্ত সংযোগ তৈরি হয় না। যশের চরিত্র রায়াকে অতিরিক্ত শক্তিশালী ও অপরাজেয় করে তুলতে গিয়ে গল্পের ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেছেন সমালোচক।

তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে যশ একেবারে ব্যর্থ নন। রায়া চরিত্রে তার পর্দা উপস্থিতি ও স্টাইল প্রশংসা পেয়েছে একাধিক রিভিউয়ে। বরং বেশ কয়েকটি পর্যালোচনায় সিনেমার অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে উঠে এসেছে কিয়ারা আদভানির নাম। নয়নতারা, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশির অভিনয় নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য রয়েছে।

‘ইন্ডিয়া টুডে’র রিভিউতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। তাদের মতে, ‘টক্সিক’-এ স্টাইল থাকলেও শক্তিশালী বক্তব্যের অভাব রয়েছে। তবে দ্বৈত চরিত্রে যশের অভিনয় এবং সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্য প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে সার্কাসে রায়ার ওপর হামলার দৃশ্যটি আলাদা করে নজর কেড়েছে।

 

নয়নতারার ‘গঙ্গা’ চরিত্রটিকেও কার্যকর মনে করা হলেও তারকা অভিনেত্রীকে যথেষ্ট পরিসর না দেওয়াকে সিনেমার দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ারার অভিনয়ও প্রশংসা পেয়েছে এই রিভিউয়ে।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সিনেমাটিকে দিয়েছে ৫-এর মধ্যে ১.৫ রেটিং। তাদের কাছেও ‘টক্সিক’ মনে হয়েছে অগভীর। তবে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে ‘এনডিটিভি’। তারা সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ৩ রেটিং দিয়েছে। যশের অভিনয়ের প্রশংসা করলেও তাদের মতে, সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ‘গ্যাংস্টার মহাকাব্য’ হয়ে উঠতে পারেনি।

সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’-এর নির্মাণে বড় পরিসর, দারুণ ভিজ্যুয়াল, অ্যাকশন ও তারকাবহুল উপস্থিতি থাকলেও সমালোচকদের বড় অংশ মনে করছেন, এসব কিছুর আড়ালে দুর্বল গল্পই সিনেমাটির সবচেয়ে বড় সমস্যা। যশের চার বছর পরের প্রত্যাবর্তন তাই বক্স অফিসে কেমন ফল এনে দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *