সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইভান মনোয়ার জানান, তাঁর একটি শর্ট ফিল্মের শুটিংয়ের জন্য নভেম্বর মাসে অভিনেতা অপূর্বের পাঁচ দিনের সিডিউল চেয়েছেন। অভিনয় শিল্পী সংঘের ওয়েবসাইটে সদস্যদের আইডি নম্বরের মাধ্যমে শুটিংয়ের জন্য সিডিউল নেওয়ার সুবিধা এবং চিত্রনাট্য সংযুক্ত করার সুযোগ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইভান মনোয়ার বলেন, অভিনয় শিল্পী সংঘের নির্বাচনের পর সংগঠনটির উন্নয়নে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, ব্যক্তিগতভাবে নেতৃবৃন্দকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সংঘকে একটি কাস্টিং এজেন্সির মতো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা। ওয়েবসাইটে সেই উদ্যোগের বাস্তব প্রয়োগ দেখে তিনি আনন্দিত। তাঁর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সংঘের ওয়েবসাইটে সব সদস্যের অডিশন ক্লিপ সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন চরিত্র ও লুকের ছবি যুক্ত করা। পাশাপাশি প্রজেক্টভেদে শিল্পীদের নির্দিষ্ট সম্মানীর ধারণা প্রকাশ, নিয়মিত ফিল্ম দেখার আয়োজন, নতুন সদস্যদের জন্য অভিনয় কর্মশালা এবং বিশেষ কস্টিউম ও প্রপসের স্টক ও ভাড়ার ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন তিনি।
শিল্পীদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন ইভান। তাঁর প্রস্তাবে রয়েছে সংঘের মধ্যস্থতায় প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তিপত্রের ব্যবস্থা, ব্যাংকিং চ্যানেল, বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে সাইনিং মানি ও ধাপে ধাপে সম্মানী পরিশোধের সুযোগ এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে শুটিং হলে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। শিল্পীদের পেশাদার প্রস্তুতির ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, অভিনয়শিল্পীদের স্ক্রিপ্টের জন্য আগেই মূল্য পরিশোধ করে সেটে প্রস্তুত হয়ে আসা উচিত। শুটিং সেটে টিকটকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক জিম ও কারাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে তাঁর একাধিক প্রস্তাব। সংঘের মাধ্যমে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা, সমুদ্র উপকূল বা পাহাড়ি এলাকায় শুটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে শুটিংয়ের আগে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অবহিত পত্র নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ ছাড়া সদস্যদের পাসপোর্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ, শিশু শিল্পীদের জন্য আলাদা তালিকা, শিল্পীদের আইনি সহায়তা, চলমান চিকিৎসা সহায়তা আরও বিস্তৃত করা এবং সব গ্রেডের শিল্পীর কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন ইভান।
নতুন শিল্পীদের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর প্রস্তাবে। ডিরেক্টরস গিল্ড, প্রোডিউসারস গিল্ড ও ইউটিউব চ্যানেল মালিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন সদস্যদের লিড চরিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
চিত্রনাট্যের মানোন্নয়ন নিয়েও নিজের মত দিয়েছেন ইভান মনোয়ার। টেলিভিশন নাট্যকার সংঘকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালকদের ভালো চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী বয়স্ক চরিত্রসহ পার্শ্বচরিত্রের যথাযথ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সবার আগে চিত্রনাট্যকারের পারিশ্রমিক পরিশোধের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘গল্পই হিরো’—কারণ একটি কাজের জন্মই হয় গল্প থেকে। অভিনয় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনলাইন ও অফলাইন ক্যামেরা-অ্যাক্টিং কোর্স চালুর পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘অ্যাক্টিং রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। সংঘের নিজস্ব ডিজিটাল স্টুডিও স্থাপন করে সেখানে পোর্টফোলিও শুট ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজের জন্য ফ্লোর ভাড়া দেওয়ার কথাও বলেছেন।
শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও তাঁর প্রস্তাবনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংঘের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় পেশাদার সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তিনি।
এর পাশাপাশি সংঘের পক্ষ থেকে শুটিংয়ের জন্য মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভাড়ার ব্যবস্থা, অভিজ্ঞ শিল্পীদের অভিনয়জীবন ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত সাক্ষাৎকার ধারণ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং বিনোদন সাংবাদিকদের সঙ্গে শিল্পীদের নিয়মিত মতবিনিময়ের আয়োজনের প্রস্তাবও রয়েছে তাঁর তালিকায়।

রাজনীতির প্রসঙ্গে ইভান মনোয়ার বলেন, অভিনয়শিল্পীদের কোনো রাজনৈতিক দল থাকা উচিত নয় এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে সবাইকে সমভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। তবে প্রত্যেক শিল্পীর রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
সবশেষে দেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনকে আরও পেশাদার ও বিশ্বমানের করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন ইভান মনোয়ার। তাঁর মতে, ‘নাটক’ ও ‘ফিল্ম’কে আলাদা করে না দেখে পুরো বিনোদন অঙ্গনকে একটি পেশাদার ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি বিভাগের মানুষের প্রতি সম্মান, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে শিল্পীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
অভিনয় শিল্পী সংঘ বর্তমানে যেভাবে কর্মশালা ও বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে, তার জন্য বর্তমান কমিটি প্রশংসার দাবিদার বলেও উল্লেখ করেন ইভান মনোয়ার।












