জয়পুরে অনুষ্ঠিত এবারের ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’র চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন উর্বশী। তাঁর পরনে ছিল গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে তৈরি অফ-শোল্ডার গাউন। পোশাকের মাঝামাঝি অংশে নীল রঙের অশোকচক্রের আদলের নকশা এবং সঙ্গে ছিল সোনালি ঝালর। হীরের কানের দুল ও রুপালি চুড়িতে সাজ সম্পূর্ণ করেন তিনি।
পোশাকটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া। একদল মনে করেন, জাতীয় পতাকার রংকে ফ্যাশনের মাধ্যমে তুলে ধরে উর্বশী দেশপ্রেমের বার্তা দিয়েছেন। অন্য অংশের প্রশ্ন, জাতীয় পতাকার রং ও অশোকচক্রকে পোশাকের নকশায় এভাবে ব্যবহার করা কতটা যথাযথ। বিষয়টি নিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা বিধির প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।
তবে সমালোচনার পাশাপাশি পোশাকটির প্রশংসাও করেছেন অনেকে। উর্বশীর পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা এসেছে। নিজের পোশাক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমিই ভারত’ এমন অনুভূতি থেকেই তিনি এই বিশেষ সাজ বেছে নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পোশাকটি ভারতের জাতীয় পতাকা থেকে অনুপ্রাণিত।

এবারের আয়োজন উর্বশীর জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ। ২০১৫ সালে ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ খেতাব জিতেছিলেন তিনি। সে সময় তাঁকে মুকুট পরিয়েছিলেন সাবেক মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর সেই একই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে এবার বিচারকের ভূমিকায় দেখা গেল উর্বশীকে। বিচারক প্যানেলে ছিলেন সুস্মিতা সেন ও সেলিনা জেটলিও।
উর্বশী পরে সুস্মিতা সেনকে তাঁর ‘প্রথম গুরু’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। নিজের পেজেন্ট ক্যারিয়ারে সুস্মিতার ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সাবেক এই বিশ্বসুন্দরীর কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা তাঁর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে এবারের ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’ মুকুট জিতেছেন কেরালার ১৯ বছর বয়সী কেজিয়া লিজ মেজো। এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, প্রতিযোগিতার বিজয়ীর পাশাপাশি এবারের ফিনালে আলোচনায় এসেছে উর্বশীর তেরঙ্গা-অনুপ্রাণিত গাউনও। দেশপ্রেমের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, নাকি জাতীয় প্রতীকের ব্যবহারে অতিরিক্ত স্বাধীনতা এই বিতর্কেই এখন সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।












