জেমসের ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে রোমে এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগে তাঁর ইউরোপ সফরের সূচিতে লন্ডন, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, রোম, ভেনিস ও সুইডেনে কনসার্টের কথা জানানো হয়েছিল।
রোমের কনসার্টের আগে জেমসকে ঘিরে অবশ্য ছিল অন্যরকম আবহ। সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রকশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উঠে আসে। বাচ্চুর জন্মদিনেই রোমের মঞ্চে গান করেন জেমস।
কিন্তু কনসার্ট শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি হোটেলসংক্রান্ত অভিযোগ। জানা যায়, জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা রোমের একটি হোটেলের অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেছিলেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পর কক্ষের কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসে।

ছবিগুলোতে মেঝেতে ব্যবহৃত পানির বোতল ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের সিঙ্কে অপরিষ্কার থালা-বাসনের পাশাপাশি ভাঙা ডিম পড়ে থাকার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় আয়োজকের কথোপকথনের স্ক্রিনশট হিসেবেও কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেল কর্তৃপক্ষ কক্ষটির অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ হিসেবে ২০০ ইউরো দাবি করেছে। একই সঙ্গে বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত ভবিষ্যতে ওই হোটেলে পুনরায় বুকিংয়ের সুযোগ না দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে জেমস নিজে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এর বাইরে জেমসের ব্যবস্থাপক রবিন মাহমুদকে ঘিরেও অভিযোগ তুলেছেন ইতালির অনুষ্ঠানের আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। তাঁর দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির হিসাব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনকি অর্থের হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও করেছেন তিনি।

আরও গুরুতর একটি অভিযোগ হলো, অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টিকে আপাতত আয়োজকের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সময় রোমের একটি হোটেলে ইতালীয় পুলিশ এসেছিল বলেও দাবি করেছেন আয়োজক। পরে জেমস ও তাঁর ব্যবস্থাপক কাউকে না জানিয়ে হোটেল ছেড়ে যান—এমন অভিযোগও রয়েছে। একই ধরনের ঘটনা পর্তুগালেও ঘটেছিল বলে দাবি করেছেন আয়োজক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেমস কিংবা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, রোমের কনসার্টটি জেমসের জন্য ছিল দীর্ঘ বিরতির পর ইতালির মঞ্চে প্রত্যাবর্তন। কনসার্টের আগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠান সফল করতে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানানো হয়েছিল।
গানের মঞ্চে জেমসের জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও কনসার্ট-পরবর্তী এই অভিযোগগুলো এখন নতুন করে আলোচনায় এনেছে তাঁর ইউরোপ সফরকে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেমস ও তাঁর টিমের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।












