সংসার ও বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন মীম

DramaUPDATE

সংগীতশিল্পী পুতুলের পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে নিজের ক্যারিয়ার, বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন মীম। সেখানে তিনি জানান, ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর পারিবারিক আয়োজনে শাহরিয়ার আহমেদ সজীবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সংসার নিয়ে অন্য সবার মতো তাঁরও অনেক স্বপ্ন ছিল। ২০১২ সালে তাঁদের বিয়ের খবরও সে সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

মীম বলেন, বিয়ের পর সংসার সুন্দরভাবে চলবে এমন প্রত্যাশাই ছিল তাঁর। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় জটিল হয়ে ওঠে।

সংসার ভেঙে যাওয়ার কারণ হিসেবে শুধু অভিনয়কে দায়ী করতে রাজি নন মীম। তাঁর ভাষ্য, একজন মানুষ কোনো কিছু পছন্দ করতে পারেন, অন্যজনের সেটি ভালো নাও লাগতে পারে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন পার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁদের দাম্পত্যে এর বাইরেও আরও অনেক বিষয় ছিল, যেগুলো সময়ের সঙ্গে খারাপের দিকে যাচ্ছিল।

নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে বলতে গিয়ে মীম কাউকে এককভাবে দায়ী করেননি। তাঁর মতে, দাম্পত্যে দুজনেরই ভুল থাকতে পারে। একই ছাদের নিচে থেকেও অনেক দম্পতি মানসিকভাবে একসঙ্গে থাকেন না—এমন উদাহরণ সমাজে কম নেই। তাই শুধু লোকলজ্জা, পরিবার কিংবা সন্তানের কথা ভেবে সম্পর্ক টেনে নেওয়ার চেয়ে বাস্তবতা মেনে নেওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

মীম জানান, সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি দীর্ঘ সময়। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর অপেক্ষা করার পর বুঝতে পারেন, সম্পর্কটি আর আগের মতো নেই। এরপর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাবা-মাকেও ধীরে ধীরে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন মীম। তাঁর বাবা-মা দুজনই চিকিৎসক। তাঁদের ওপর যেন হঠাৎ করে সিদ্ধান্তটির চাপ না পড়ে, সে জন্য সময় নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন পরিবারের বাসায় বিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেন বলে জানান অভিনেত্রী।

বিচ্ছেদের পর নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী নন মীম। তাঁর ভাষায়, নতুন সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়ে আগের মতো আস্থা আর তাঁর মধ্যে নেই। গত কয়েক বছরে পরিবার থেকেও তাঁকে আবার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসেছে একাধিক প্রস্তাব। কিন্তু সেসব প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের এই বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘদিন গণমাধ্যম থেকেও দূরে ছিলেন মীম। তাঁর ভাষ্য, বিচ্ছেদের পর পরিবার থেকে নতুন করে বিয়ের জন্য যে ধরনের চাপ এসেছে, সেটিও তাঁকে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়া থেকে দূরে থাকার অন্যতম কারণ।

অভিনয়ে মীমের পথচলা শুরু হয়েছিল ছোটবেলাতেই। গানের অনুষ্ঠান দিয়ে মিডিয়ায় আসার পর ১৯৯২ সালে বিটিভির নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১২ সালের বিয়ের পর আর নিয়মিত নাটকে দেখা যায়নি তাঁকে। পরে সংবাদ পাঠ ও উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন পর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায় নিয়ে মীমের খোলামেলা বক্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর বিচ্ছেদের গল্প। তবে সাবেক স্বামীকে নিয়ে কোনো অভিযোগ না তুলে বরং নিজের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্তের কথাই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *