জেন জির প্রেমে নতুন জটিলতা, কী এই মেবিলেশনশিপ?

LIFESTYLE

কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়। দিনের ছোটখাটো ঘটনা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অনুভূতি, সবকিছুই ভাগাভাগি করা হয়। একে অপরের খোঁজ নেওয়া হয়, তৈরি হয় অভিমানও। কখনো মনে হয়, বন্ধুত্বের সীমা পেরিয়ে সম্পর্কটি প্রেমের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কিছু বলেন না। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, দুজন কি সত্যিই প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চান, নাকি এই ঘনিষ্ঠতা বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

সম্পর্কের এমন অনিশ্চিত পর্যায় বোঝাতে আলোচনায় এসেছে ‘মেবিলেশনশিপ’ শব্দটি। বিশেষ করে জেন জির সম্পর্কের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মনোবৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়, বরং সম্পর্কের একটি অনিশ্চিত অবস্থাকে বোঝানোর অনানুষ্ঠানিক নাম।

কী এই মেবিলেশনশিপ?

ইংরেজি ‘মেবি’ (Maybe) এবং ‘রিলেশনশিপ’ (Relationship) শব্দের সমন্বয়ে তৈরি ‘মেবিলেশনশিপ’। সহজভাবে বললে, দুজন মানুষের মধ্যে রোমান্টিক আকর্ষণ বা ভালো লাগা রয়েছে, কিন্তু তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। সম্পর্কটি কোন দিকে এগোবে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

এ অবস্থায় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। নিয়মিত যোগাযোগ, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা কিংবা একে অপরের প্রতি বিশেষ মনোযোগও দেখা যেতে পারে। কিন্তু সম্পর্কের পরিচয় বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা উঠলেই তৈরি হয় দ্বিধা।

একজন হয়তো সম্পর্কটিকে আরও গভীর করতে চান, অন্যজন আবার সময় নিতে চান। কখনো দুজনের অনুভূতি থাকলেও কেউই প্রথমে তা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এভাবেই ভালো লাগা ও অনিশ্চয়তার মাঝখানে আটকে থাকতে পারে সম্পর্ক।

জেন জির মধ্যে কেন আলোচনায়?

ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তার মানুষের পরিচিত হওয়া ও ঘনিষ্ঠতা তৈরির ধরন বদলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ ও ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরে থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা সম্ভব। অল্প সময়ের মধ্যেই কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় ভাগাভাগি করার মতো ঘনিষ্ঠতাও তৈরি হতে পারে।

তবে যোগাযোগের পরিমাণ বেশি হলেই যে দুজনের প্রত্যাশা এক হবে, তা নয়। একজন হয়তো সম্পর্কের সম্ভাবনা খুঁজছেন, অন্যজন হয়তো কেবল পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা উপভোগ করছেন। আবার আগের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় কিংবা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়ে দ্বিধাও সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দিতে পারে।

 

ফলে সম্পর্কের অনুভূতি থাকলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। তবে এই প্রবণতা শুধু জেন জির মধ্যে সীমাবদ্ধ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো সর্বজনীন প্রমাণ নেই। বিভিন্ন বয়সের মানুষের সম্পর্কেও এমন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

সিচুয়েশনশিপের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

মেবিলেশনশিপের সঙ্গে ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর কিছু মিল রয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই সম্পর্কের পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্টতা থাকতে পারে। তবে শব্দ দুটির ব্যবহারে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

মেবিলেশনশিপে মূল দ্বিধা হলো, দুজন প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন কি না। অন্যদিকে, সিচুয়েশনশিপে দুজনের মধ্যে প্রেমের মতো ঘনিষ্ঠতা বা আচরণ থাকলেও সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পরিচয়, সীমারেখা কিংবা প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট নাও হতে পারে।

অবশ্য বাস্তবে এই দুই অবস্থার মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো সীমানা নেই। একটি মেবিলেশনশিপ সময়ের সঙ্গে সিচুয়েশনশিপে রূপ নিতে পারে। আবার দুজন নিজেদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে সম্পর্কটি স্পষ্ট ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রূপও পেতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি এমন সম্পর্কে আছেন?

কাউকে ভালো লাগছে কি না, তা সব সময় সহজে বোঝা যায় না। তবে কিছু পরিস্থিতি মেবিলেশনশিপের ইঙ্গিত দিতে পারে।

কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে, দুজনের মধ্যে বিশেষ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, কিন্তু সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনো আলোচনা হয়নি। একসঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগলেও একজন অপরজনের কাছে সম্পর্কের অবস্থান জানতে দ্বিধা করছেন। আবার একজন সম্পর্কটিকে এগিয়ে নিতে চাইলেও অন্যজন বারবার সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অনুভূতি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা, প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে সংঘাত কিংবা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দুজনের একজন যখন সম্পর্কটিকে গভীরভাবে দেখেন, অথচ অন্যজন একইভাবে ভাবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়, তখন মানসিক অস্বস্তি বাড়তে পারে।

অনিশ্চয়তা কাটাবেন কীভাবে?

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধা তৈরি হলে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে কথা বলা জরুরি। সরাসরি প্রশ্ন করতে অস্বস্তি হলে সহজভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যেতে পারে। যেমন, ‘তোমার সঙ্গে সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে। তুমি আমাদের সম্পর্কটিকে কীভাবে দেখছ?’

এ ধরনের কথোপকথনের উদ্দেশ্য অপর ব্যক্তিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা নয়। বরং দুজনের প্রত্যাশা, অনুভূতি ও সীমারেখা বোঝা। একজন সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত থাকলেও অন্যজন প্রস্তুত নাও থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করার পাশাপাশি নিজের চাহিদা ও মানসিক স্বস্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের অবস্থান স্পষ্ট করতে না চান, তাহলে নিজের কাছে প্রশ্ন রাখা দরকার, এই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা আপনার জন্য কতটা স্বস্তিকর। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আশায় নিজের প্রত্যাশা ও অনুভূতিকে বারবার উপেক্ষা করা দীর্ঘমেয়াদে কষ্টের কারণ হতে পারে।

সম্পর্কের নামের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?

মেবিলেশনশিপ মূলত ভালো লাগা ও প্রতিশ্রুতির মাঝখানে থাকা এক অনিশ্চিত অবস্থাকে বোঝায়। এই পর্যায় কারও কাছে পরস্পরকে জানার সময় হতে পারে, আবার কারও জন্য তা মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই সম্পর্কের নাম কী, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দুজনের মধ্যে সততা, পারস্পরিক সম্মান ও প্রত্যাশার স্বচ্ছতা। একজন কী চান, অন্যজন কী চান এবং দুজনের চাওয়া কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বোঝার চেষ্টা করাই জরুরি।

ভালো লাগা সম্পর্কের শুরু হতে পারে, কিন্তু সেই সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করে দুজনের বোঝাপড়া ও সিদ্ধান্তের ওপর।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *