ক্যাশমিয়ারের জনপ্রিয়তা পেরিয়ে এবার ডেনিমে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন সুপারমডেল গিগি হাদিদ। নিজের ব্র্যান্ড ‘গেস্ট ইন রেসিডেন্স’-এর নতুন জিনস কালেকশনে গুরুত্ব পেয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, ব্যবহারিক নকশা ও ব্যক্তিগত স্টাইল। প্রচারণায় মডেল হয়েছেন তাঁর বোন বেলা হাদিদ।
ফ্যাশন দুনিয়ায় জিনস এমন একটি পোশাক, যা ট্রেন্ড বদলালেও নিজের জায়গা ধরে রাখে। কখনো ঢিলেঢালা কাট, কখনো স্ট্রেইট-লেগ, আবার কখনো ওয়ার্কওয়্যার অনুপ্রাণিত নকশায় ফিরে আসে ডেনিম। এবার এই চিরচেনা পোশাককে নিজের ব্র্যান্ডের নতুন সংযোজন হিসেবে তুলে ধরেছেন সুপারমডেল ও উদ্যোক্তা গিগি হাদিদ।
গিগির ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘গেস্ট ইন রেসিডেন্স’ মূলত ক্যাশমিয়ার নিটওয়্যারের জন্য পরিচিত। ব্র্যান্ডটি চালুর পর থেকে স্বতন্ত্র রং, আরামদায়ক বুনন ও সহজে পরার উপযোগী নকশার পোশাকে ক্রেতাদের মনোযোগ পেয়েছে। এবার সেই পরিসর বাড়িয়ে ডেনিম কালেকশন এনেছেন গিগি। নতুন সংগ্রহে রয়েছে চার ধরনের জিনস, যার প্রতিটির নকশা আলাদা জীবনযাপন ও ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি।

শৈশবের স্মৃতি থেকে নিজের ডেনিম কালেকশন
জিনসের সঙ্গে গিগি হাদিদের সম্পর্ক নতুন নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শৈশবের স্মৃতিতে ডেনিমের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে মায়ের জিনস পরার দৃশ্য তাঁর মনে গেঁথে আছে। মডেল হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার শুরুর দিকেও ডেনিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা গেছে।
তবে নিজের ব্র্যান্ড চালু করার সময় শুরুতেই জিনস নিয়ে কাজ করেননি তিনি। বরং ক্যাশমিয়ার পোশাককে কেন্দ্র করেই গড়ে তুলেছেন ‘গেস্ট ইন রেসিডেন্স’। পরে ব্র্যান্ডের মূল নিটওয়্যারের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে ভিনটেজ জিনসও বিক্রি করা হয়। ক্রেতাদের সাড়া পাওয়ার পর ডেনিম নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন গিগি।
ভোগ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নতুন কোনো পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করতে চান না। পণ্যটি নিজের পোশাকের সংগ্রহে প্রয়োজনীয় কি না এবং ব্র্যান্ডের নান্দনিকতার সঙ্গে মানানসই কি না, সেটি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ডেনিম কালেকশন তৈরির ক্ষেত্রেও এই ভাবনাই কাজ করেছে।
চার ধরনের জিনস, চার রকম ব্যবহার
গিগির নতুন কালেকশনের বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু ট্রেন্ডি নকশার দিকে নজর দেওয়া হয়নি। দিনের বিভিন্ন সময়, কাজের ধরন ও ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

ট্রাভেলার: ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই জিনসে রয়েছে তুলনামূলক উঁচু কোমর, প্রশস্ত সিলুয়েট ও সামান্য ছড়ানো পায়ের অংশ। নরম ও হালকা ডেনিমের তৈরি হওয়ায় এটি ঢিলেঢালা, স্বচ্ছন্দ লুকের জন্য উপযোগী। দীর্ঘ বিমানযাত্রায় আরামদায়ক পোশাক হিসেবে এই নকশাকে গুরুত্ব দিয়েছেন গিগি।
উইকেন্ডার: নামের মতোই ছুটির দিনের পোশাক হিসেবে ভাবা হয়েছে এই জিনসকে। কাট তুলনামূলক সোজা, আর কাপড়েও রয়েছে কোমল অনুভূতি। কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হওয়া, দৈনন্দিন কেনাকাটা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাঞ্চে যাওয়ার মতো সাধারণ আয়োজনে মানিয়ে যাবে এই স্টাইল।
এভরিডে: প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য তৈরি এই জিনসের ডেনিম কিছুটা দৃঢ়। ক্লাসিক স্ট্রেইট-লেগ কাটের কারণে ক্যাজুয়াল অফিস পোশাকের সঙ্গেও এটি সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়। শার্ট, টি-শার্ট কিংবা নিট টপের সঙ্গে পরলে তৈরি হতে পারে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক লুক।
ওয়ার্কডে: ওয়ার্কওয়্যার থেকে অনুপ্রাণিত এই নকশায় রয়েছে ডাবল-নি ডিটেইল এবং ব্যবহারিক পকেট। ডেনিমের প্রচলিত রূপের সঙ্গে কাজের পোশাকের কার্যকর নকশা মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে স্টাইলটি। যারা পোশাকে একটু কাঠামোবদ্ধ ও ট্রেন্ডি ভাব পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প।
চারটি স্টাইলই বিভিন্ন রং ও ডেনিম ওয়াশে পাওয়া যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যাশমিয়ার পোশাকের মতোই ভবিষ্যতে মৌসুম অনুযায়ী নতুন রং ও সংস্করণ যুক্ত করার কথাও জানিয়েছেন গিগি।
নিজের পোশাক থেকেই নকশার অনুপ্রেরণা
নতুন কালেকশন তৈরির আগে নিজের পুরোনো ফ্যাশন লুকগুলোও বিশ্লেষণ করেছেন গিগি। তাঁর টিম বছরের পর বছর জিনস পরা অবস্থায় তোলা গিগির বিভিন্ন ছবির বড় বড় বোর্ড তৈরি করে। সেগুলো পর্যালোচনা করে তিনি বুঝতে পারেন, গত পাঁচ বছরে তাঁর ব্যক্তিগত স্টাইলে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।

টি-শার্ট ও জিনসের মতো মৌলিক পোশাক তাঁর সংগ্রহে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে ব্যালে ফ্ল্যাট কিংবা স্কার্টের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক পোশাকের প্রতি টান একই রয়ে গেছে। নিজের এই অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন কালেকশনে আরামকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি।
গিগির পরিকল্পনা, জিনসগুলো যেন তাঁর ব্র্যান্ডের নিটওয়্যারের সঙ্গেও সহজে পরা যায়। অর্থাৎ, একটি সোয়েটার বা সাধারণ টপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আলাদা করে বেশি ভাবতে হবে না। দৈনন্দিন পোশাকের সংগ্রহে এমন বহুমুখী পণ্য রাখাই তাঁর লক্ষ্য।
প্রচারণায় বেলা হাদিদ
নতুন ডেনিম কালেকশনের প্রচারণার জন্য গিগি বেছে নিয়েছেন নিজের বোন বেলা হাদিদকে। দুই বোনের সম্পর্কের পরিচিত রসায়ন এবার উঠে এসেছে ব্র্যান্ডের প্রচারণায়ও।
গিগি জানিয়েছেন, বেলা দীর্ঘদিন ধরেই মজা করে তাঁর ব্র্যান্ডের প্রচারণায় মডেল হওয়ার কথা বলতেন। তবে সঠিক পণ্য ও উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন গিগি। জিনস কালেকশনের জন্য বেলাকে বেছে নেওয়াকে তাঁর কাছে যথাযথ সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।
একই সঙ্গে বেলার মতো পরিচিত মডেলকে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেছেন তিনি। গিগির কাছে এটি শুধু পারিবারিক সহযোগিতা নয়, বরং ব্র্যান্ডের নতুন অধ্যায়কে সামনে আনার একটি বিশেষ মুহূর্ত।
ফ্যাশনে স্বাচ্ছন্দ্যই শেষ কথা
গিগি হাদিদের নতুন ডেনিম কালেকশনের মূল ভাবনা শুধু সুন্দর দেখানো নয়, বরং পোশাক পরে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ বোধ করা। তাঁর মতে, পোশাক এমন হওয়া উচিত, যা পরে বাইরে গেলে বারবার নিজের জামাকাপড় ঠিক করার কথা ভাবতে হয় না। বরং পোশাকের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য থাকলে মানুষ নিজের কাজ ও মুহূর্তগুলোতে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
এই দর্শন থেকেই চার ধরনের জিনস তৈরি করেছেন তিনি। ভ্রমণ, ছুটির দিন, অফিস কিংবা দৈনন্দিন কাজ, প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা বিকল্প রাখার চেষ্টা করেছেন।
ডেনিমের জগতে নতুন ব্র্যান্ডের প্রবেশ অবশ্যই প্রতিযোগিতার অংশ। তবে নিজের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি গুরুত্ব এবং ক্যাশমিয়ার ব্র্যান্ডের পরিচিত নান্দনিকতাকে একত্র করে গিগি হাদিদ এবার জিনসকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। তাঁর নতুন কালেকশন সেই চেষ্টারই প্রতিফলন।












