ফ্যাটি লিভারের ৫ লক্ষণ, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়

HealthLIFESTYLE

প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ না থাকলেও রোগটি বাড়তে থাকলে শরীরে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নিচের পাঁচটি লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা

সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা বা স্বাভাবিক কাজ করতেও আগের তুলনায় বেশি দুর্বল বোধ করা লিভারের সমস্যার একটি সম্ভাব্য সংকেত। বিশেষ করে বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

তবে ক্লান্তি মানেই ফ্যাটি লিভার এমনটা নয়। ঘুমের ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপসহ নানা কারণেও শরীরে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কারণ ছাড়াই ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. পেটের ডান দিকে অস্বস্তি

লিভারের অবস্থান পেটের ওপরের ডান দিকে, পাঁজরের ঠিক নিচে। ফ্যাটি লিভারের কারণে কারও কারও এই অংশে চাপ, ভারী লাগা কিংবা হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষ করে আগে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ার পর যদি ডান দিকের ওপরের পেটে অস্বস্তি বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। অবশ্য এই ধরনের ব্যথার পেছনে পিত্তথলি বা হজমের সমস্যাসহ অন্য কারণও থাকতে পারে।

৩. চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া

চোখের সাদা অংশ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়াকে জন্ডিস বলা হয়। সাধারণ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক উপসর্গ নয়। বরং লিভারের কার্যকারিতায় গুরুতর সমস্যা কিংবা অন্য কোনো লিভার-সম্পর্কিত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া কিংবা মল ফ্যাকাশে হয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. পা বা পেট ফুলে যাওয়া

লিভারের গুরুতর ক্ষতির ক্ষেত্রে শরীরে তরল জমে যেতে পারে। এর ফলে পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো পেটেও অতিরিক্ত তরল জমে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে পারে। এই অবস্থাকে অ্যাসাইটিস বলা হয়।

তবে শরীরে ফোলাভাবের পেছনে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। তাই হঠাৎ বা ক্রমশ বাড়তে থাকা ফোলাভাবকে শুধু ওজন বাড়ার কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৫. সহজেই কালশিটে পড়া বা রক্তপাত

লিভার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব প্রোটিন তৈরির সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তখন সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়া বা স্বাভাবিকের তুলনায় সহজে রক্তপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। কারণ ছাড়াই বারবার কালশিটে পড়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা ছোটখাটো আঘাতের পর দীর্ঘসময় রক্তপাত হলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি।

উপসর্গ দেখা দিলেই কি ফ্যাটি লিভার?

উপরের কোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিলেই ফ্যাটি লিভার হয়েছে কিংবা রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। এসব লক্ষণের অনেকগুলোরই অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের অবস্থা নির্ণয় করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভার অনেক সময় নীরবে এগোয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার, শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মতো জীবনযাপন লিভারের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *