‘জোয়ার’-এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন লেখক ও সাংবাদিক। লেখালেখির মাধ্যমে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। তবে তার প্রতিবাদী অবস্থানই একসময় তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। একপর্যায়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরে তার মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার জীবনের করুণ অধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাতা তুলে ধরেছেন গুমের শিকার মানুষদের নির্মম পরিণতি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা ও মানসিক যন্ত্রণার গল্প। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটও সিনেমাটির গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। সিনেমাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিখোঁজ স্বজনের ফিরে আসার আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করে থাকা পরিবারগুলোর বাস্তবতা। সেই অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে গল্পের আবেগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন নির্মাতা।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’-এর তদন্তেও দেড় হাজারের বেশি গুমের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায়ই ‘জোয়ার’-এর গল্পকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। ইউটিউবে মুক্তির আগেই বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি। সর্বশেষ ৬ষ্ঠ বগুড়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর ‘ন্যাশনাল শর্ট’ বিভাগে ‘বিআইএফএফ সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার’ অর্জন করেছে ‘জোয়ার’।
সীমিত পরিসরের মধ্যে নির্মিত হলেও গুম ও নিখোঁজের মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটিও সামনে এনেছে ‘জোয়ার’।












