শিশুদের রঙিন আয়োজনে পর্দা নামল মুস্তাফা মনোয়ার নাট্যোৎসবের

EventsUPDATE

রোববার রাতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় শিশুদের জন্য সাজানো এই আয়োজন। উৎসবের বিভিন্ন পর্বে ছোটদের অংশগ্রহণে শিল্পচর্চার পাশাপাশি ছিল নাটক, পাপেট শো ও গল্পের আসর। বরেণ্য চারুশিল্পী ও পাপেট চর্চার পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারের জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয়বারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করে বটতলা। শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উৎসবের প্রথম দিন শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় কার্টুন আঁকার কর্মশালা। পাশাপাশি ‘মাটির পাঠশালা’য় মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার সুযোগ পায় শিশুরা। ছিল বায়োস্কোপ, পুতুল তৈরির আয়োজন এবং শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিচপটাং’ ও ‘আনারসের ঢাকা সফর’। শুধু বিনোদন নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিচর্চারও সুযোগ ছিল উৎসবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে সামাজিক সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’ আয়োজন করে ইনক্লুসিভ মিউজিক শো ‘ধরণীর গান’। এ ছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য নতুন দুটি বই প্রকাশ করে ‘গপ্পোসপ্পো’। সমাপনী দিনেও ছিল শিশুদের জন্য নানা আয়োজন। গল্পের আসরের পর পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় বিশেষ নাট্যোৎসর্গ ‘একের ভিতর তিন’। এর অংশ হিসেবে পরপর পরিবেশিত হয় ‘বন্যথেরিয়াম’, ‘ডাকাত হালুম চিচপটাং’ এবং পাপেট শো ‘সবুজ দেশের বিপদ’।

শিশুদের হাসি, খেলাধুলা ও শিল্পচর্চায় মুখর উৎসব প্রাঙ্গণ শেষ দিনে পরিণত হয় রঙিন এক সাংস্কৃতিক আয়োজনে। নাটক ও পাপেট শোর মাধ্যমে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরির বার্তাও উঠে আসে পুরো উৎসবজুড়ে।

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের চারুশিল্প, টেলিভিশন ও পাপেটচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিশুদের জন্য তাঁর কাজ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজনকে তাই শুধু বিনোদনের অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা না; বরং নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন তাঁরা।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগে ভুগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ জুন সকালে মারা যান মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে আয়োজিত এই শিশু নাট্যোৎসবের মধ্য দিয়ে শিল্পী ও পাপেটচর্চার এই পথিকৃৎকে স্মরণ করল বটতলা।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *