রাকায়েত রাব্বি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ভেনিসের ঐতিহাসিক হোটেল এক্সেলসিয়রের ক্যামপারি লাউঞ্জে গত ১০ সেপ্টেম্বর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাকায়েতের এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
যুদ্ধের গল্পে শিশুর চোখ
‘হাওয়াই মিঠাই’ নির্মিত হয়েছে যুদ্ধের পটভূমিতে। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে শুধু সংঘাতের দৃশ্য দিয়ে নয়, একটি শিশুর মনস্তত্ত্ব ও সরল অনুভূতির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন নির্মাতা।
ছবিটির গল্পে উঠে এসেছে বুলেটের খোসার বিনিময়ে হাওয়াই মিঠাই কেনার একটি ঘটনা। একটি শিশুর কাছে সামান্য আনন্দের এই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে পাশাপাশি রেখে মানবিক এক গল্প তৈরি করেছেন রাকায়েত। ব্যতিক্রমী এই গল্প ও নির্মাণশৈলীই আন্তর্জাতিক বিচারকদের নজর কেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
‘বাংলাদেশের হয়ে পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি আলাদা’
আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে রাকায়েত রাব্বি বলেন, এমন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পুরস্কার পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি। ‘হাওয়াই মিঠাই’ তাঁর নির্মিত দ্বিতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপের জন্য আলফা আইয়ের ব্যানারে ‘জহরে কহরে’ নির্মাণ করেন তিনি। এরপর ‘হাওয়াই মিঠাই’ নির্মাণের পাশাপাশি চরকির জন্য ‘গ্যাড়াকল’ ও ‘টিফিন বক্স’ নামে দুটি ফ্ল্যাশফিল্মও নির্মাণ করেছেন এই নির্মাতা।
প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার
এর আগেও রাকায়েত রাব্বির নির্মিত চলচ্চিত্র বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে। তবে ভেনিসের ‘সন অব এ পিচ অ্যাওয়ার্ড’-এর এই স্বীকৃতিই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
নতুন এই অর্জন তাঁর নির্মাণযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকল।
যুদ্ধ নয়, শিশুদের জন্য শান্তির পৃথিবী
‘হাওয়াই মিঠাই’-এর মাধ্যমে মূলত যুদ্ধবিরোধী একটি মানবিক বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছেন রাকায়েত। নির্মাতার ভাবনায়, পৃথিবীর প্রতিটি যুদ্ধ থেমে যাওয়া উচিত। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে মায়ের কাছে ফিরতে পারে এবং পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারে এটাই ছবিটির মূল আকাঙ্ক্ষা।
যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার মধ্যে কোনো শিশুকে সামান্য আনন্দের জন্য হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো কিছুর লোভে পড়তে না হয় এই মানবিক বার্তাই চলচ্চিত্রটির গল্পের কেন্দ্রে রেখেছেন নির্মাতা।












