সংসদে যাওয়ার সাজ সাধারণত খুব বেশি চোখধাঁধানো হয় না। পরিপাটি পোশাক, মার্জিত রং আর প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকে বেশির ভাগের প্রস্তুতি। তবে বলিউড অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াতের ক্ষেত্রে গল্পটা যেন একটু আলাদা। ভারতের সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর পোশাক ছিল সাদামাটা ও রুচিশীল, কিন্তু সঙ্গে থাকা কয়েকটি অনুষঙ্গই মুহূর্তে তাঁকে নিয়ে তৈরি করেছে ফ্যাশন-আলোচনা।
হালকা নীল রেশমের শাড়ি, সাদা ব্লাউজ ও হালকা রঙের জুতায় সেদিন কঙ্গনার উপস্থিতিতে ছিল পরিমিত সৌন্দর্য। মণিপুরের একটি ব্র্যান্ডের তৈরি শাড়িটির নরম রং ও সরল নকশা তাঁর পুরো সাজে এনে দিয়েছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। ভারী গয়না কিংবা অতিরিক্ত মেকআপের বদলে স্বাভাবিক সাজেই নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।
তবে কঙ্গনার এই লুকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাঁর ব্যাগ।
হাতে হার্মেস, দাম প্রায় ৪৫ লাখ টাকা
কঙ্গনার হাতে দেখা যায় ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড হার্মেসের জনপ্রিয় বারকিন ব্যাগ। বাছুরের নরম ও টেকসই টোগো চামড়ায় তৈরি এই ব্যাগ ফ্যাশন দুনিয়ায় অন্যতম কাঙ্ক্ষিত বিলাসপণ্য হিসেবে পরিচিত।

তাঁর বহন করা ব্যাগটির মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক ৪৫ লাখ টাকার বেশি। পোশাকের সঙ্গে ব্যাগটির রং ও নকশার সমন্বয়ও ছিল বেশ পরিমিত। ফলে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো কোনো ঝলমলে উপাদান না থাকলেও ব্যাগটিই হয়ে ওঠে পুরো লুকের সবচেয়ে আলোচিত অংশ।
বারকিন ব্যাগের বিশেষত্ব অবশ্য শুধু দামে নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এটি ফ্যাশন দুনিয়ায় স্ট্যাটাস সিম্বল হিসেবে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে তারকা ও ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে এর বিশেষ আবেদন রয়েছে।
হাতে রোলেক্স, দাম ২৭ লাখের বেশি
ব্যাগের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে কঙ্গনার হাতের ঘড়িটিও। তাঁর কবজিতে দেখা গেছে বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ড রোলেক্সের লেডি-ডেটজাস্ট মডেল। বাদামি ডায়ালের ঘড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২১ লাখ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ লাখ টাকার বেশি।
কঙ্গনার সাজে ঘড়িটি ছিল এমন একটি অনুষঙ্গ, যা একই সঙ্গে কার্যকরী ও অলংকারের ভূমিকা পালন করেছে। শাড়ির মার্জিত সৌন্দর্যের সঙ্গে দামি ঘড়ির সমন্বয় পুরো লুকে যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

ছাতাতেও আলাদা নজর
ব্যাগ ও ঘড়ির বাইরে কঙ্গনার হাতে ছিল গুড আর্থ ব্র্যান্ডের একটি ছাতা। ভারত মহাসাগর থেকে অনুপ্রাণিত ছাপা নকশার এই ছাতাটির দাম প্রায় ৬ হাজার ১০০ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৭ হাজার টাকা।
অন্য দুই অনুষঙ্গের তুলনায় ছাতাটির দাম অনেক কম হলেও নকশার কারণে এটিও তাঁর সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় একটি সাধারণ অনুষঙ্গকেও কঙ্গনা বেছে নিয়েছেন ফ্যাশন-সচেতনতার সঙ্গে।
সাদামাটা পোশাকে বিলাসের ছোঁয়া
কঙ্গনার এই উপস্থিতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এখানেই তাঁর পোশাক মোটেও অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। হালকা নীল শাড়ি ও সাদা ব্লাউজের সরল সমন্বয়ের সঙ্গে দামি ব্যাগ ও ঘড়ির মতো বিলাসী অনুষঙ্গ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী একটি লুক।
একদিকে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড এই বৈপরীত্যই তাঁর সাজকে করেছে আলাদা।
সব মিলিয়ে কঙ্গনার সঙ্গে থাকা ব্যাগ, ঘড়ি ও ছাতার মূল্য প্রায় ৫৬ লাখ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭২ লাখ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ শাড়ি ও অন্যান্য পোশাকের মূল্য বাদ দিয়েই তাঁর অনুষঙ্গের দাম পৌঁছে গেছে কয়েক দশক লাখ টাকায়।

ফলে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সেই মুহূর্তে কঙ্গনার সাজ শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না; হয়ে উঠেছিল ফ্যাশন স্টেটমেন্টও। তাঁর লুক আবারও মনে করিয়ে দিল সাজের আভিজাত্য সব সময় পোশাকের জাঁকজমকে থাকে না, কখনো কখনো একটি ব্যাগ, একটি ঘড়ি কিংবা একটি ছাতাই পুরো উপস্থিতির গল্প বদলে দিতে পারে।












