একসময় নিয়মিতই জোভান-তিশাকে দেখা যেত বিভিন্ন নাটকে। ‘আই হেট লাভ স্টোরি’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘কি করে বলব তোকে’, ‘কাপল ক্যাম্পাস’সহ একাধিক নাটকে তাঁদের জুটি দর্শকের মধ্যে তৈরি করেছিল আলাদা আগ্রহ। রোমান্টিক গল্পে তাঁদের স্বাভাবিক অভিনয়, পর্দায় বোঝাপড়া এবং সহজাত রসায়নই ছিল এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁদের কাজের ব্যস্ততা, বদলেছে গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার ধরন। ফলে একসঙ্গে কাজের সংখ্যাও কমেছে। সেই জায়গা থেকেই ‘প্রতিশোধ’-এ তাঁদের প্রত্যাবর্তন যেন পুরোনো দর্শকদের জন্য খানিকটা নস্টালজিয়ারও।
এবার প্রেমের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা
‘প্রতিশোধ’ শুধু জোভান-তিশার পুরোনো রোমান্টিক জুটি দেখানোর গল্প নয়। বরং তাঁদের চরিত্রকে এবার দেখা গেছে ক্যারিয়ার, ক্ষমতা, অহংবোধ ও পুরোনো সম্পর্কের টানাপোড়েনে।
নাটকে জোভান অভিনয় করেছেন রাফায়েল চরিত্রে। বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে চাকরির জন্য আবেদন করে সে। কিন্তু সাক্ষাৎকারে মারজান চরিত্রের তানজিন তিশার কাছ থেকে তাকে অপমানিত হতে হয়। সেই অপমান থেকেই গল্পে জন্ম নেয় প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা।

পরবর্তী সময়ে রাফায়েল যোগ দেয় প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্রতিষ্ঠানে। শুরু হয় দুই প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার লড়াই। পরিস্থিতির পরিবর্তনে একপর্যায়ে দুই প্রতিষ্ঠান একীভূত হলে মারজান ও রাফায়েলকে একই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যায়। সেখান থেকেই গল্প এগোয় পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইগোর সংঘাত এবং অতীতের সম্পর্কের রহস্য ঘিরে।
অর্থাৎ ‘প্রতিশোধ’-এর গল্পে ব্যক্তিগত সম্পর্কের আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করপোরেট দুনিয়ার প্রতিযোগিতা। চাকরির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার নানা শর্ত, নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাস্তবতা এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মতো বিষয়ও গল্পে জায়গা পেয়েছে।
কেন আবারও আলোচনায় ‘তিভান’?
নাটকটি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে জোভান-তিশার জুটির প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন পর তাঁদের একসঙ্গে দেখে অনেক দর্শকই পুরোনো নাটকের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যেও তাঁদের নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করার দাবি দেখা গেছে।

এখানেই ‘তিভান’ নামটির গুরুত্ব। এটি কেবল দুই অভিনয়শিল্পীর নাম মিলিয়ে তৈরি একটি ডাকনাম নয়; তাঁদের জুটিকে ঘিরে দর্শকের তৈরি করা এক ধরনের আলাদা পরিচয়। তাঁদের একসঙ্গে দেখার জন্য দর্শকের যে প্রত্যাশা, সেটিই এই নামকে জনপ্রিয় করেছে।
এক দর্শকের মন্তব্যে যেমন উঠে এসেছে, পুরোনো জুটিগুলোর মধ্যে জোভান-তিশার রসায়নে আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। আরেক দর্শকের মতে, গল্পের পাশাপাশি তাঁদের স্বাভাবিক অভিনয় ও পর্দার বোঝাপড়াই জুটিটিকে আলাদা করে তোলে।
জুটির গল্পে জুটিরই প্রত্যাবর্তন
জোভান ও তানজিন তিশা প্রায় একই সময়ে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিক থেকেই তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে নানা ধরনের নাটকে। সময়ের সঙ্গে দুজনেই নিজেদের অভিনয়ের পরিধি বাড়িয়েছেন। বিশেষ করে তানজিন তিশা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু রোমান্টিক চরিত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রে কাজ করার দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছেন।
ফলে ‘প্রতিশোধ’-এ তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়াটা শুধু একটি জনপ্রিয় জুটির প্রত্যাবর্তন নয়, বরং তাঁদের অভিনয়যাত্রার নতুন পর্যায়ও বটে। এবার তাঁদের সম্পর্কের জায়গায় যেমন আবেগ আছে, তেমনি আছে পেশাগত সংঘাত ও ক্ষমতার লড়াই।
‘তিভান’ কি আবার নিয়মিত হবে?
‘প্রতিশোধ’ দেখার পর দর্শকের স্বাভাবিক প্রশ্ন জোভান ও তানজিন তিশাকে কি এবার আবার নিয়মিত একসঙ্গে দেখা যাবে?
জোভান নিজেও জানিয়েছেন, অনেক দিন পর তাঁদের একসঙ্গে কাজ হয়েছে এবং নাটকটির শুটিং হয়েছিল ঈদের আগে। অর্থাৎ আপাতত এটিকে নিয়মিত জুটি হিসেবে ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বলা যাচ্ছে না। তবে দর্শকের আগ্রহ যে এখনো অটুট, ‘প্রতিশোধ’ ঘিরে প্রতিক্রিয়াই তার প্রমাণ।

নাটকটি পরিচালনা করেছেন মাহমুদ মহিন। লেখার কাজেও ছিলেন শাহজাহান সৌরভ ও মাহমুদ মহিন। জোভান ও তিশার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন আরেফিন জিলানী, মানস বন্দ্যোপাধ্যায় ও বড়দা মিঠু। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাটকটি প্রথমে টেলিভিশনে প্রচারিত হয় এবং পরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও দর্শকের কাছে পৌঁছায়।
সব মিলিয়ে ‘প্রতিশোধ’ হয়তো শুধু একটি নতুন নাটক নয় জোভান-তিশার পুরোনো রসায়নকে নতুন গল্পের ভেতর আবার আবিষ্কার করার সুযোগও। সময় বদলেছে, তাঁদের চরিত্র বদলেছে, গল্পের ধরনও বদলেছে। কিন্তু দর্শকের কাছে ‘তিভান’-এর সেই চেনা মায়া যে এখনো রয়ে গেছে, নতুন এই নাটকটি সেটিই আবার মনে করিয়ে দিল।












