সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাসান মাসুদ জানিয়েছিলেন, আপাতত অভিনয় করছেন না। হজ করে ফেরার পর ধর্মীয় কাজে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর সেই বক্তব্যের পরই অনেকে ধরে নেন, শোবিজ থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়িয়েছেন এই অভিনেতা।
তবে নতুন এক সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ বলেন, আগের বক্তব্যটি ঠিকভাবে বলা হয়নি। তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছিলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিত অভিনয় করছেন না এবং মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কিন্তু আমি কখনো বলিনি যে, আর অভিনয় করব না।’
ভালো গল্প পেলেই ফিরবেন
অভিনয়ে ফেরার দরজা যে তাঁর জন্য বন্ধ হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করেছেন হাসান মাসুদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখনকার কাজের ক্ষেত্রে গল্প ও কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পছন্দসই কোনো গল্প পেলে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে আপত্তি নেই।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছিলেন তিনি। তখন জানিয়েছিলেন, অভিনয় আর করতে চান না এবং পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি বয়স ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে বলেই তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে।
ধর্মচর্চার সঙ্গে অভিনয়ের বিরোধ দেখেন না
হাসান মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর ধর্মচর্চা। হজ করে আসার পর ধর্মীয় কাজে মনোযোগী হওয়ার কথা বললেও অভিনয় এবং ধর্মীয় জীবনকে পরস্পরবিরোধী মনে করেন না তিনি।
তিনি জানান, ২০০০ সাল থেকেই নিয়মিত নামাজ পড়েন। শুটিংয়ের সময়ও সহকর্মী ও নির্মাতারা তাঁর নামাজের সময়কে গুরুত্ব দিতেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি নিয়ে নামাজ আদায় করেই আবার কাজে ফিরেছেন তিনি।
অর্থাৎ ধর্মচর্চায় মনোযোগী হওয়া তাঁর অভিনয়জীবনের পথে বাধা নয়। বরং দুই বিষয়কেই নিজের মতো করে সামলে নিতে চান তিনি।
হজের পরও ক্যামেরার সামনে
হজ থেকে ফেরার পরও যে অভিনয় পুরোপুরি বন্ধ করেননি, তার প্রমাণও দিয়েছেন হাসান মাসুদ। জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন। সামনে পছন্দসই কাজ এলে সেখানেও তাঁকে দেখা যেতে পারে।
এদিকে গত জুলাইয়েও তাঁর অভিনয় থেকে দূরে থাকার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তখন সংবাদমাধ্যমে আসে, অভিনয়ে আসার আগে সাংবাদিকতা করা হাসান মাসুদ আবার সাংবাদিকতায় ফেরার কথা ভাবছেন।
সেনাবাহিনী থেকে সাংবাদিকতা, তারপর অভিনয়
হাসান মাসুদের ক্যারিয়ারও অন্য অনেক অভিনেতার চেয়ে আলাদা। অভিনয়ে আসার আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ছিলেন। ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে বিবিসির বাংলা বিভাগেও কাজ করেছেন।

সাংবাদিকতা ছেড়ে অভিনয়ে এসে ২০০০-এর দশকে দ্রুত পরিচিতি পান তিনি। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়। পরে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’সহ চলচ্চিত্রে কাজ করেন। টেলিভিশন নাটকেও হয়ে ওঠেন দর্শকের পরিচিত মুখ।
‘হাউসফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’, ‘বাতাসের ঘর’সহ বেশ কিছু নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়।
তাহলে কি আবার নিয়মিত দেখা যাবে?
এই মুহূর্তে নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি হাসান মাসুদ। তবে তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার-অভিনয়কে বিদায় জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তিনি নেই।
ভালো গল্প, পছন্দসই চরিত্র এবং মানসম্মত কনটেন্ট পেলে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চান তিনি। ফলে দর্শকের জন্য হাসান মাসুদের প্রত্যাবর্তনের দরজা এখনো খোলা।













