৮ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে ‘টক্সিক’-এর পূর্ণাঙ্গ ট্রেলার। আর প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে উন্মাদনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ১৫ ঘণ্টায় ট্রেলারটি দেড় কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। যদিও এটি নির্মাতাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ইউটিউবের অফিসিয়াল অ্যানালিটিকস নয়, তবু ট্রেলার ঘিরে যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেটি স্পষ্ট।
কারণ শুধু ভিউ নয়, ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই যশের নতুন অবতার, সিনেমার অন্ধকার আবহ, সহিংসতা এবং গল্পের রহস্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
‘রকি ভাই’ নয়, এবার অন্য যশ
‘কেজিএফ’ ও ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু’-এর রকি ভাই চরিত্র যশকে ভারতের অন্যতম বড় অ্যাকশন তারকায় পরিণত করেছে। তাই তাঁর নতুন সিনেমা মানেই স্বাভাবিকভাবেই ‘কেজিএফ’-এর সঙ্গে তুলনা। কিন্তু ‘টক্সিক’-এর ট্রেলার সেই তুলনাকে যেন শুরুতেই থামিয়ে দিতে চাইছে। এখানে যশকে দেখা গেছে আরও অন্ধকার, আরও বেপরোয়া এবং অনেক বেশি রহস্যময় এক চরিত্রে।

ট্রেলারে কখনো তিনি নির্মম গ্যাংস্টার, কখনো অস্বাভাবিকভাবে শান্ত, আবার কখনো ভয়ংকর সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁর পোশাক, চেহারা, অভিব্যক্তি এবং অ্যাকশন, সবকিছুতেই রয়েছে আলাদা একটি ভিজ্যুয়াল পরিচয়।
ট্রেলার প্রকাশের সময় যশও জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’-কে ‘কেজিএফ’-এর সঙ্গে তুলনা না করে নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখতে চান তিনি। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু কন্নড়, তামিল কিংবা তেলুগু সিনেমা নয়-এটি একটি ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম
ডাবল রোল, নাকি বাবা-ছেলের রহস্য?
ট্রেলারের সবচেয়ে বড় রহস্য সম্ভবত যশের চরিত্র।
তাঁকে একাধিক ভিন্ন লুকে দেখা যাওয়ায় সিনেমাটিতে তাঁর দ্বৈত চরিত্র থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি গল্পে বাবা-ছেলের সম্পর্ক ও দ্বন্দ্বের একটি রহস্যময় সূত্রও ট্রেলারে দেখা গেছে।

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যশের ডাবল রোল কিংবা বাবা-ছেলের গল্পের পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
আর সেটিই হয়তো ‘টক্সিক’-এর সবচেয়ে বড় কৌশল। ট্রেলার গল্প বলে দেওয়ার বদলে প্রশ্ন তৈরি করেছে। যশের চরিত্র আসলে কে? তাঁর একাধিক রূপের পেছনে কী রহস্য? বাবা-ছেলের সম্পর্কই বা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তি পর্যন্ত।
শুধু যশ নন, নারী চরিত্রেও বড় চমক
‘টক্সিক’-কে শুধুই যশের অ্যাকশন সিনেমা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সিনেমাটিতে রয়েছে শক্তিশালী নারী চরিত্রের উপস্থিতিও।
নয়নতারাকে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে। আছেন কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়ার মতো অভিনেত্রীরাও।

বিশেষ করে গীতু মোহনদাসের নির্মাণভাষায় নারী চরিত্রগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। ট্রেলারেও তাঁদের শুধু নায়ককে ঘিরে থাকা চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং গল্পের রহস্য ও সংঘাতের সঙ্গে তাঁদেরও যুক্ত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
‘কেজিএফ’-এর পর আরও বড় ঝুঁকি যশের
যশের জন্য ‘টক্সিক’ শুধু আরেকটি সিনেমা নয়। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এটি তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী বড় পরীক্ষা।
‘কেজিএফ’-এর পর দর্শকের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। ফলে এবার শুধু বড় অ্যাকশন বা বড় বাজেট দিয়ে দর্শককে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হবে না। প্রয়োজন নতুন গল্প, নতুন চরিত্র এবং নতুন অভিজ্ঞতা।
সেই জায়গাতেই গীতু মোহনদাসের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
‘মূথন’-এর মতো প্রশংসিত সিনেমা দিয়ে নিজের আলাদা নির্মাণভাষা তৈরি করেছেন গীতু। তাঁর হাতে যশের মতো বড় অ্যাকশন তারকা-এই সমন্বয়ই ‘টক্সিক’-কে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
ট্রেলার অন্তত বলছে, পরিচালক প্রচলিত গ্যাংস্টার গল্পকে শুধু মারপিটের মধ্যে আটকে রাখেননি; এর সঙ্গে অন্ধকার, মনস্তত্ত্ব, সম্পর্ক এবং রহস্যও মিশিয়েছেন।
বাজেটেও বিশাল, প্রায় ৭০০–৮০০ কোটি!
‘টক্সিক’-কে ঘিরে আলোচনার আরেকটি বড় কারণ এর বিশাল বাজেট। বিভিন্ন শিল্প-প্রতিবেদনে সিনেমাটির বাজেট প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে।
এই অঙ্ক সত্যি হলে ‘টক্সিক’ ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমাগুলোর একটি। এত বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বিশাল।
তবে বড় বাজেটের পাশাপাশি যশ ও নির্মাতা গীতু মোহনদাসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই বিপুল বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিদান দেওয়া।
মুক্তির আগেই রেকর্ডের ইঙ্গিত
‘টক্সিক’-এর প্রতি দর্শকের আগ্রহ অবশ্য ট্রেলারেই প্রথম দেখা গেল না। এর আগে সিনেমাটির টিজারও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত টিজারটি প্রথম ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ভাষার ইউটিউব চ্যানেল মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৮৫ লাখ ভিউ পেয়েছিল বলে স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আবার সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে ১০ কোটির বেশি ডিজিটাল ভিউয়ের দাবি করা হয়েছিল।

অর্থাৎ ট্রেলার প্রকাশের আগেই ‘টক্সিক’ নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিশাল প্রত্যাশা। এবার পূর্ণাঙ্গ ট্রেলারের দেড় কোটি ভিউয়ের খবর সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুক্তির তারিখ নিয়েও কম নাটক হয়নি
‘টক্সিক’-এর মুক্তির পথও খুব একটা মসৃণ ছিল না। বিভিন্ন কারণে সিনেমাটির মুক্তির পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। শেষ পর্যন্ত সর্বশেষ ঘোষণায় ২৬ আগস্ট ২০২৬ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা জানানো হয়েছে।
মুক্তির আগে এখন সিনেমাটির প্রচারণাই হবে সবচেয়ে বড় বিষয়। আর সেই প্রচারণার কেন্দ্রে থাকবেন যশ-এটা প্রায় নিশ্চিত।
‘টক্সিক’ কি ‘কেজিএফ’-এর রেকর্ড ছুঁতে পারবে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। কারণ অনলাইনে ট্রেলারের ভিউ আর বক্স অফিসের সাফল্য এক জিনিস নয়।
তবে ‘টক্সিক’কে ঘিরে যে উপাদানগুলো রয়েছে, সেগুলো নিঃসন্দেহে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে—যশের তারকাখ্যাতি, গীতু মোহনদাসের নির্মাণভাষা, নয়নতারা-কিয়ারা-হুমা কুরেশিদের মতো তারকা, বিশাল বাজেট, অন্ধকার গ্যাংস্টার জগৎ, রহস্যময় চরিত্র এবং ‘কেজিএফ’-এর পর যশকে নতুনভাবে দেখার আগ্রহ।
সবচেয়ে বড় কথা, ‘টক্সিক’ এখনো তার গল্পের মূল রহস্য পুরোপুরি প্রকাশ করেনি। বরং ট্রেলার যতটা দেখিয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন রেখে গেছে।
যশের চরিত্র কি সত্যিই ডাবল রোল? বাবা-ছেলের সম্পর্কের আড়ালে কী লুকিয়ে আছে? এই অন্ধকার জগতের আসল নিয়ন্ত্রক কে? আর ‘টক্সিক’ নামের পেছনেই বা কী অর্থ?
উত্তর মিলবে ২৬ আগস্ট।

তার আগে ট্রেলার একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—‘কেজিএফ’-এর রকি ভাই হয়ে যশ যে অধ্যায় শুরু করেছিলেন, ‘টক্সিক’ দিয়ে তিনি সেই পরিচিত ইমেজের বাইরে গিয়ে আরও অন্ধকার এক জগতে প্রবেশ করছেন।
১৫ ঘণ্টায় দেড় কোটি ভিউয়ের আলোচনার পর এখন দেখার পালা, সেই উন্মাদনা প্রেক্ষাগৃহে কতটা বিস্ফোরণ ঘটায়।
কারণ এবার শুধু যশ ফিরছেন না-ফিরছে যশের এক সম্পূর্ণ নতুন অবতার।












