রইদ-মাস্তুলসহ তিন দিনে ছয় সিনেমা, দেখা যাবে বিনামূল্যে

DhallywoodEventsUPDATE

তিন দিনের এই আয়োজনে মোট ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সাম্প্রতিক আলোচিত সিনেমা ‘রইদ’, পাশাপাশি রয়েছে ‘মাস্তুল’ ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’

এক উৎসবে একাল ও সেকাল

‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল-সেকাল’ নামেই আয়োজনটির মূল ভাবনাটি স্পষ্ট। একদিকে রয়েছে সমকালীন নির্মাতাদের সিনেমা, অন্যদিকে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক কাজ। ফলে একই উৎসবে নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র ভাবনা এবং পুরোনো সময়ের শক্তিশালী চলচ্চিত্রভাষার সঙ্গে দর্শকদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে ‘জীবন থেকে নেয়া’ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। জহির রায়হান পরিচালিত ১৯৭০ সালের এই চলচ্চিত্রে পারিবারিক গল্পের আড়ালে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছিল। সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে ছবিটির গুরুত্ব কমেনি।

অন্যদিকে ‘রইদ’ একেবারেই সমকালীন সময়ের ছবি। ‘হাওয়া’খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরাননাজিফা তুষী। গ্রামীণ জীবন, মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্ক ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

মুক্তির পর দেশের বাইরেও ‘রইদ’ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ছয় শহরে প্রদর্শনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ৩১টি শহরেও ছবিটি মুক্তি পায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনপিআরের চলচ্চিত্র পর্যালোচনার জন্যও এটি নির্বাচিত হয়।

বিনামূল্যে সিনেমা দেখার সুযোগ

রাজধানীতে নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার সুযোগ থাকলেও চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে একসঙ্গে ভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন ঘরানার সিনেমা দেখার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। তার ওপর এই উৎসবে কোনো টিকিটের প্রয়োজন না থাকায় দর্শকদের জন্য এটি হতে পারে সিনেমা দেখার সহজ ও আকর্ষণীয় সুযোগ।

তিন দিনের উৎসবটি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের পাশাপাশি তরুণ দর্শক, শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহী নতুন প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, শুধু বিনোদনের জন্য সিনেমা দেখার বাইরে একটি চলচ্চিত্র কীভাবে সময়, সমাজ, ইতিহাস ও মানুষের জীবনকে ধারণ করে—সেটিও বোঝার সুযোগ তৈরি করবে এমন আয়োজন।

নতুন-পুরোনোর সেতুবন্ধন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একদিকে যেমন নতুন নির্মাতারা ভিন্নধর্মী গল্প ও নির্মাণশৈলী নিয়ে কাজ করছেন, তেমনি অতীতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র আজও দর্শকদের কাছে প্রাসঙ্গিক। ‘একাল-সেকাল’ উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এই দুই সময়কে একই পর্দায় পাশাপাশি নিয়ে আসা।

‘রইদ’-এর মতো সমকালীন চলচ্চিত্রের সঙ্গে ‘জীবন থেকে নেয়া’র মতো ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র একই আয়োজনের অংশ হওয়ায় দর্শক একদিকে বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্রচর্চা দেখতে পারবেন, অন্যদিকে ফিরে যেতে পারবেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ে।

তিন দিনের এই উৎসব তাই কেবল ছয়টি সিনেমা দেখার আয়োজন নয়; বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানকে একসঙ্গে দেখার একটি সুযোগ। ৯ থেকে ১১ আগস্ট জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিনামূল্যে এই আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

You may also like

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *